ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় পূর্ব শত্রুতা ও গ্রাম্য বিরোধের জেরে প্রকাশ্যে কুপিয়ে কলেজছাত্র সুমন শেখকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার এক এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (৫ জুলাই) ভোররাত প্রায় ৩টার দিকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বেলা ১২টার দিকে তাকে ফরিদপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া আসামির নাম কবির শেখ (৫৫)। তিনি আলফাডাঙ্গা উপজেলার বড়ভাগ গ্রামের মৃত হাকি শেখের ছেলে এবং সুমন হত্যা মামলার ৮ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ জুন সন্ধ্যা ৬টার দিকে আলফাডাঙ্গা উপজেলার বড়ভাগ পূর্বপাড়া এলাকায় প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয় কলেজছাত্র সুমন শেখকে। তিনি বড়ভাগ গ্রামের আলাউদ্দিন শেখের ছোট ছেলে এবং গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার এম এ খালেক ডিগ্রি কলেজের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
এ ঘটনায় পরদিন নিহতের বড় ভাই শামীম শেখ বাদী হয়ে আলফাডাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য কুদ্দুস শেখের ছেলে মো. হোসাইন শেখকে প্রধান আসামি করে ১৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর থেকে কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় নিহতের পরিবার, স্বজন এবং এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছিল। অবশেষে কবির শেখের গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে এই হত্যা মামলায় প্রথম কোনো এজাহারভুক্ত আসামি পুলিশের হাতে ধরা পড়ল।
এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান বলেন, “সুমন হত্যা মামলার এক এজাহারভুক্ত আসামিকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আশা করছি, খুব দ্রুতই তাদেরও আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।