কাতারের এলএনজি রপ্তানি বিশ্ববাজারের প্রায় ২০ শতাংশ জোগান দেয়। ফলে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে।

সেন্টার ফর এ নিউ আমেরিকান সিকিউরিটির জ্যেষ্ঠ ফেলো রেচেল জিয়েম্বা বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর চাপ বাড়ায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে।

এশিয়ার বাজার, বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান এই ধাক্কা সবচেয়ে বেশি অনুভব করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানিতে চীন শীর্ষে থাকলেও তাদের ৩৪ শতাংশ গ্যাস আসে অস্ট্রেলিয়া থেকে।

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ফুয়েলস অব দ্য ফিউচারের জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ম্যাকসিম সোনিন বলেন, এই সিদ্ধান্ত বাজারে অস্থিরতা তৈরি করবে, তবে এখনই একে ‘সংকট’ বলা ঠিক হবে না। তিনি আল জাজিরাকে বলেন, কাতার বা অন্য কেন্দ্রগুলোর অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে স্বল্পমেয়াদে বাজারে ওঠানামা বাড়বে। তবে ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর ইউরোপে যে গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছিল, তা পুনরাবৃত্তি হবে বলে তিনি মনে করেন না।

২০২২ সালের আগে রাশিয়া ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বড় এলএনজি রপ্তানিকারক। ইউক্রেন যুদ্ধের পর তাদের রপ্তানি কমে যায়। বর্তমানে শীর্ষ রপ্তানিকারক যুক্তরাষ্ট্র, এরপর কাতার ও অস্ট্রেলিয়া।

এদিকে কাতারএনার্জির বিক্রির ৮২ শতাংশ এশিয়ায় গেলেও উৎপাদন বন্ধ থাকায় ইউরোপসহ অন্যান্য বাজারেও চাপ বাড়ছে। সরবরাহ কমে গেলেও চাহিদা একই থাকায় দাম বেড়েছে। এছাড়া উৎপাদন বন্ধের ঘোষণার পর সোমবার ডাচ ও ব্রিটিশ পাইকারি গ্যাসের মানদণ্ডমূল্য প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। একই দিনে এশিয়ার মানদণ্ড এলএনজির দাম প্রায় ৩৯ শতাংশ লাফিয়ে ওঠে।

রেচেল জিয়েম্বা বলেন, কাতার দীর্ঘ সময় উৎপাদনের বাইরে থাকলে তা ভালো হবে না। তবে তিনি উল্লেখ করেন, ইউরোপে শীতের সবচেয়ে কঠিন সময়টি অন্তত পেরিয়ে গেছে।

রয়টার্স বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তৃত সংঘাতের প্রভাব মূল্যায়নে ইউরোপীয় ইউনিয়নের গ্যাস সমন্বয় গ্রুপ বুধবার বৈঠক করবে। ইউরোপীয় কমিশনের এক মুখপাত্র এ তথ্য জানিয়েছেন। সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত এই গ্রুপ গ্যাস মজুত ও সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এবং সংকটে সমন্বিতভাবে পদক্ষেপ নিয়ে থাকে।