কালের সাক্ষী মাগুরার ৬৫০ বছরের প্রাচীন ‘বাইতুন নূর জামে মসজিদ

মাগুরার শালিখা উপজেলার আড়পাড়া ইউনিয়নের গোপালগ্রামে প্রায় সাড়ে ছয়শ বছরের ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে মুঘল আমলের প্রাচীন স্থাপত্য শিল্পের এক অপূর্ব নিদর্শন। বর্তমানে ‘বাইতুন নূর জামে মসজিদ’ নামে পরিচিত এই স্থাপনাটি কালের বিবর্তনে আজও টিকে আছে। সংস্কার ও সংরক্ষণের অভাবে দীর্ঘ সময় জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকলেও এলাকাবাসীর উদ্যোগে বর্তমানে এটি মুসল্লিদের ইবাদতের জন্য উপযোগী করা হয়েছে।

​স্থাপত্যের বৈশিষ্ট্য ও ইতিহাস

​শালিখা উপজেলা সদর থেকে মাত্র ২ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবস্থিত এই মসজিদটি দৈর্ঘ্য ৬০ ফুট এবং প্রস্থ ৪০ ফুট। একটি গম্বুজ ও চারটি পিলারের ওপর নির্মিত এই মসজিদের দেয়ালগুলো প্রায় ৪০ ইঞ্চি পুরু, যা তৈরিতে কোনো রডের ব্যবহার করা হয়নি। মসজিদের চারপাশের মিনারে শিউলি, গোলাপ ও পদ্মসহ বিভিন্ন ফুল ও লতাপাতার দৃষ্টিনন্দন কারুকার্য খোদাই করা আছে। দেয়ালের গায়ে আরবি ও উর্দু ভাষায় খোদাই করা রয়েছে ইসলামী গজল।

​জনশ্রুতি আছে, মুঘল সম্রাট আকবরের আমলে তৎকালীন সমাজসেবক কলিম উদ্দিন শিকদার (বড় শিকদার) ও জমিদার হযরত শাহসুফি জমির উদ্দিন আহমদের আহবানে সাড়া দিয়ে এই মসজিদটি নির্মিত হয়েছিল। স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠদের কেউ কেউ মসজিদটিকে অলৌকিক বা ‘জিনের তৈরি’ বলে বিশ্বাস করলেও এর স্থাপত্যশৈলী মুঘল আমলের আভিজাত্যই ফুটিয়ে তোলে।

​বর্তমান অবস্থা ও সংস্কার

​২০১৭ সালে সর্বশেষ বড় ধরনের সংস্কারের পর থেকে গ্রামবাসীর নিজস্ব অর্থায়নে মসজিদটির মূল কাঠামোর চারপাশ বর্ধিত করা হয়েছে। মসজিদের ভেতরের মেহরাব ও দেয়ালের কারুকার্যগুলো বর্তমানে ব্যবহারের উপযোগী করা হয়েছে। ৭-৮টি গ্রামের শিশুদের আরবি শিক্ষা ও স্থানীয়দের প্রধান প্রার্থনা কেন্দ্র হিসেবে মসজিদটি ব্যবহৃত হচ্ছে।

​মসজিদ সংলগ্ন জমির বর্তমান মালিক ৭৫ বছর বয়সী ফজর করিম শিকদার জানান, মসজিদটি কয়েক পুরুষের স্মৃতি বহন করছে। শৈশবে তিনি মসজিদটিকে অনেক উঁচু অবস্থায় দেখেছেন। মসজিদটির গায়ে এক সময় খোদাই করা সাল দেখে এর প্রাচীনত্ব অনুমান করা যেত।

​সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার দাবি

​গোপালগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা এখন আধুনিক। উপজেলা সদর থেকে পাকা রাস্তা তৈরি হওয়ায় গ্রামটির বিচ্ছিন্নতা দূর হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, অযত্নে পড়ে থাকা এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি যদি সরকারি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে পূর্ণ সংস্কার করা হয়, তবে এটি কেবল মাগুরা নয়, সারা বাংলাদেশের অন্যতম একটি পর্যটন ও ঐতিহাসিক নিদর্শনে পরিণত হবে।

​প্রাচীন এই ঐতিহ্য রক্ষা করে আগামী প্রজন্মের কাছে ইতিহাসের সাক্ষী হিসেবে টিকিয়ে রাখার জন্য সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছেন এলাকাবাসী।

 

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় সমীক্ষাতেই আটকে পুরাতন ব্রহ্মপুত্রে সেতু নির্মাণ, ভরসা এখনো বাঁশের সাঁকো

নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রাম এবং গাজীপুরের কাপাসিয়া