নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের ফুলবাড়িয়া, কুলিয়াদি, রঘুরামপুর, শিমুলিয়া ও ব্রাহ্মণখালী এলাকার দুই শতাধিক পরিবার আবারও উচ্ছেদের আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে। বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক প্রকল্পের জন্য ৩৮ দশমিক ৭৬ একর জমি অধিগ্রহণের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো গণশুনানি ছাড়াই জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। তাদের দাবি, বসতভিটা ও আবাদি জমির পরিবর্তে সরকারি খাস, অনাবাসিক বা পতিত জমিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হোক।
জানা যায়, পূর্বাচল উপশহর নির্মাণের সময় উচ্ছেদ হওয়া অনেক পরিবার এসব এলাকায় নতুন করে বসতি গড়ে তোলে। এখন আবার একই পরিবারের অনেকেই দ্বিতীয়বার উচ্ছেদের শঙ্কায় রয়েছেন। এলাকাবাসীর ভাষ্য, জমি অধিগ্রহণ হলে তারা বসতভিটা ও জীবিকার একমাত্র অবলম্বন কৃষিজমি হারাবেন।
রঘুরামপুরের মুজিবর রহমান খান, কুলিয়াদির শহিদুল ইসলাম, মোস্তফা কামাল ও নজরুল ইসলামসহ ভুক্তভোগীরা বলেন, তারা পুনরায় উচ্ছেদ চান না। প্রয়োজনে প্রকল্প অন্যত্র বাস্তবায়নের দাবি জানান তারা।
পূর্বাচল রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফরিদ-আল-সোহান বলেন, কোস্ট গার্ডের আবাসিক প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়েছে।
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, আইন অনুযায়ী ভূমি অধিগ্রহণ হলে ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ ও আবেদন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। আর রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, সরকারি বিধি অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দিয়ে কারও ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হবে না।



