জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় শাস্তি থেকে অব্যাহতি পাওয়া এবং শাস্তি হ্রাসপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান। যদিও তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ অনুযায়ী জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট এমন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত প্রকাশযোগ্য তথ্যের আওতায় পড়ে বলে জানা যায়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গৃহীত শাস্তিমূলক ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনার পর দায়মুক্তি ও শাস্তি হ্রাসপ্রাপ্তদের একটি তালিকা উপাচার্যের কার্যালয়ে সংরক্ষিত রয়েছে।
তালিকাটি দেখতে বা প্রকাশের বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য বলেন, শাস্তিহ্রাস ও দায়মুক্তির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আবারও আপিল করা হয়েছে। এ কারণে তালিকা প্রকাশে আইনি জটিলতা রয়েছে।বর্তমান সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যেহেতু সিদ্ধান্তটির বিরুদ্ধে আপিল হয়েছে, তাই এটি প্রকাশ করা যাবে না।
তবে তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর ধারা ৬(১) অনুযায়ী, ‘প্রত্যেক কর্তৃপক্ষ উহার গৃহীত সিদ্ধান্ত, কার্যক্রম কিংবা সম্পাদিত বা প্রস্তাবিত কর্মকাণ্ডের সকল তথ্য নাগরিকগণের নিকট সহজলভ্য হয়, এইরূপে সূচিবদ্ধ করিয়া প্রকাশ ও প্রচার করিবে।’
একই আইনের ধারা ৭-এ তথ্য প্রদানে অস্বীকৃতির যেসব কারণ উল্লেখ করা হয়েছে, সেখানে কেবল কোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল চলমান থাকা তথ্য গোপন রাখার বৈধ কারণ হিসেবে উল্লেখ নেই।
এ ছাড়া আইনের ধারা ৬(২) অনুযায়ী, ‘তথ্য প্রকাশ ও প্রচারের ক্ষেত্রে কোন কর্তৃপক্ষ কোন তথ্য গোপন করিতে বা উহার সহজলভ্যতাকে সঙ্কুচিত করিতে পারিবে না।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত একটি প্রশাসনিক কার্যক্রমের অংশ হওয়ায় সেটি জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট তথ্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। সুতরাং, এ তালিকা গোপন রাখা সরাসরি আইনবিরোধী।




