ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার প্রায় প্রতিটি বাজারেই এখন চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়াই ‘মুড়ির মতো’ বিক্রি হচ্ছে উচ্চ ক্ষমতার অ্যান্টিবায়োটিকসহ বিভিন্ন জীবনরক্ষাকারী ওষুধ। কোনো প্রকার রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ফার্মাসিস্ট ও ওষুধ বিক্রেতারা রোগীদের দেহে ক্ষতিকারক ও উচ্চ ক্ষমতার এসব ওষুধ প্রয়োগ করছেন। এমনকি ফার্মেসিতে সিরিয়াল দিয়ে শিশু ও বৃদ্ধদের চিকিৎসা দেওয়ার মতো ভয়াবহ চিত্রও দেখা যাচ্ছে।
দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, এমবিবিএস (MBBS) এবং বিডিএস (BDS) ডিগ্রিধারী ছাড়া অন্য কেউ নামের পূর্বে ‘ডাক্তার’ পদবি ব্যবহার করতে পারেন না। এছাড়া কোনো প্রকার অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ প্রেসক্রিপশন করা বা সরাসরি রোগীকে দেওয়ার ক্ষেত্রে স্পষ্ট আইনগত নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এই আইন অমান্য করলে ১ বছরের জেল ও ৩ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। অথচ তজুমদ্দিনের বাজারগুলোতে এই আইনের কোনো তোয়াক্কাই করা হচ্ছে না। হাতুড়ে চিকিৎসকদের এমন অনিয়ন্ত্রিত ওষুধ বাণিজ্যের কারণে সাধারণ মানুষ মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ছেন।
এই অবস্থায় উপজেলার ফার্মেসিগুলোর লাইসেন্স ও বিক্রেতাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা যাচাই করা জরুরি হয়ে পড়েছে। কোন বিক্রেতা কতটুকু ওষুধ দিতে পারবেন, তার সঠিক নিয়ম নিশ্চিত করতে এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। জনস্বার্থে ভোলার সিভিল সার্জন, ড্রাগ সুপার এবং তজুমদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। অনিয়মকারী ফার্মেসিগুলোর বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে সিলগালাসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।