আজ২৮/০১/২০২৬ তারিখে ভোলা জেলার অন্তর্গত ব্যাংকের হাট উপজেলা মডেল মসজিদে জেলা ইমাম সম্মেলন ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, এম, মাকসুদুর রহমান, উপ-পরিচালক, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ভোলা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জনাব ডা,শামীম রায়হান, জেলা প্রশাসক, ভোলা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জনাব শহীদুল্লাহ কাওসার, পিপিএম ভোলা, ও জেলা পুলিশ সুপার, ভোলা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, আব্দুল হাই আল হাদী, জেলা নির্বাচন অফিসার, ভোলা । বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জনাব ডাক্তার মনিরুল ইসলাম, সিভিল সার্জন, ভোলা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জনাব মোঃ আরিফুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ভোলা সদর, ভোলা। সকাল ১০ঃ০০ ঘটিকার সময় ভোলা জেলার প্রায় ৭০০ ইমাম খতিবদের উপস্থিতিতে ইমাম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে সভাপতির বক্তৃতায় ভোলা জেলা সলামিক ফাউন্ডেশন এর উপপরিচালক বলেন। এদেশের আলেম-ওলামা এবং ইমাম খতিবগণ জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাদের সম্মেলন আজকে ভোলা জেলার শ্রেষ্ঠ সম্মেলন। উক্ত সম্মেলনে আগত সকলকে আমি আন্তরিক মোবারকবাদ জানাচ্ছি। তিনি বলেন, আজ জাতি এক কঠিন ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে, জাতির সংকটময় সময়ে ইমাম এবং ওলামায়ে কেরামের গুরুত্ব এবং ভূমিকা অনেক বেশি। কারণ জাতিকে তারা সঠিক পথ দেখায়। তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ১৯৭১ সালে আমরা দীর্ঘ সংগ্রাম এবং কঠোর সাধনা ও বহু আততাহুতীর মাধ্যমে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। কিন্তু এ জাতি কখনোই স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ উপলব্ধি করতে পারেনি। দীর্ঘ শাসক শোষণ এবং নির্যাতনের পরে ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট ছাত্র জনতার কোন অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফেসি জমের কবর রচিত হয়ে আমরা আমাদের ভোটের অধিকার ফিরে পেয়েছি। যদি আমরা এই অধিকারকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে না পারি, তাহলে আমাদের উপরে এমন অমাবস্যার রাত চলে আসবে যার আলো উদ্ভাসিত হওয়া অসম্ভব।
বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় ভোলা জেলা পুলিশ সুপার বলেন।আপনারা আগামী ১২ই জানুয়ারি তারিখে কেন্দ্রে যেয়ে সবাইকে সাথে নিয়ে নিজেদের ভোট প্রদান করবেন। যদি কেউ আপনাদের বলে, আপনাদের ভোট দেওয়া হয়ে গেছে আপনারা বাড়িতে চলে যান। তাহলে তাদেরকে গরুর দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেলবেন। আইন -শৃঙ্খলা বাহিনী আপনাদের পাশে আছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী আপনাদের পাশে অত্যন্ত প্রহরির নেয় কাজ করবে। প্রধান অতিথির বক্তৃতায় জেলা প্রশাসক জনাব ডা, শামীম রায়হান বলেন, ওলামায়ে কেরাম এবং ইমাম খতিবগণ আমার শ্রদ্ধার পাত্র। আমি যখন যেখানে যেই জায়গাতেই সরকারি দায়িত্ব পালন করেছি, ওলামায়ে কেরাম এবং ইমামদেরকে আমি সম্মানের চোখে দেখেছি। তাদেরকে আমি হৃদয় দিয়ে ভালোবাসি, কারণ তাদেরকে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ও ভালবাসেন। তিনি বলেন, জাতির প্রত্যেকটি দুর্যোগপূর্ণ মুহূর্তে ইমাম এবং ওলামায়ে কেরাম জাতিকে সঠিক পথ দেখিয়েছে। তাই আগামীর নির্বাচনে জাতিকে সঠিক নির্দেশনার জন্য আপনাদেরকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি বলেন, দেশের চাবি এখন আপনাদের হাতে। জনগণকে হা ভোট এবং না ভোটের ব্যাপারে সঠিক নির্দেশনার যাওয়ার জন্য তিনি ইমামদেরকে আহ্বান জানান। দেশে বিচার ব্যবস্থার স্বাধীনতা, নাগরিকদের মৌলিক অধিকার, রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও সরকারি কর্মকমিশন একত্রে কাজ করা, একই মেয়াদে একই ব্যক্তি ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী না থাকা সহ বিভিন্ন বিষয়ে হা ভোটের পক্ষে বাস্তবসম্মত দিকনির্দেশনা তিনি তুলে ধরেন পাশাপাশি যারা না ভোট দিবেন তাদেরকে এর বিপরীত অবস্থা নিতে হবে বলে ও তিনি মুসল্লিদের মধ্যে আলোচনা করতে বলেন। তিনি বলেন, জাতির জন্য সময় এসেছে সঠিক নেতৃত্ব বুঝে নেওয়ার, আমাদের দেশে প্রতি পাঁচ বছর পর পর নির্বাচন হওয়ার কথা, কিন্তু অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের বিষয় যে দুই বছর পরেই আমাদেরকে নির্বাচনে আসতে হয়েছে। এরপরও যদি জাতি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারে তাহলে জাতিকে অনেকদিন এর মাশুল দিতে হবে। একটি সুন্দর সোনালী স্বপ্নীল আগামীর বাংলাদেশ গড়ার জন্য সকলকে বুঝেশুনে তাদের রায় দেওয়ার জন্য এবং ইমাম সাহেবদেরকে সুচিন্তিত গঠনমূলক দিকনির্দেশনা মূলক বক্তব্য দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান। ইমাম সাহেবদের কে উদ্দেশ্য করে ডিসি মহোদয় বলেন, আমি আপনাদের এবং এই জেলার জনগণের সেবক।আপনাদের বিপদে-আপদে সর্বসময় আপনারা আমাকে কাছে পাবেন। তিনি বলেন, আপনারা ধর্মীয় এবং আধ্যাত্মিক রাহবার।তাই আপনারা আমাদের এই প্রিয় জন্মভূমি মাতৃভূমি বাংলাদেশের জন্য সকলে দোয়া করবেন।




