বঙ্গোপসাগরে অপহরণত ২৮ জেলের মধ্যে মুক্তিপনে ফিরেছে ৮ জেলে,এখনও ট্রলারসহ আরও ২০ জেলে জিম্মি

সুন্দরবন সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে চাঁদা ও মুক্তিপনের দাবিতে গত চার দিনে দু’দফায় ২৮ জেলেকে অস্ত্রের মুখে অপহৃরন করেছে সুন্দরবনের জলদস্যুরা। গভীর সমুদ্রে মাছধরা অবস্থায় ট্রলার ও জালসহ তাদের অপহৃরন করে জলদস্যু করিম শরিফ বাহিনী ও জাহাঙ্গীর বাহিনী। এদের মধ্যে ৮ জেলে মুক্তিপন দিয়ে ফিরে আসলেও ট্রলার সহ ২০ জেলে জিম্মি রয়েছে সশস্ত্র জলদস্যু বাহিনীর হাতে। এ ঘটনায় জেলেদের মধ্যে চরম আতংক ও গভীর উৎকন্ঠা বিরাজ করছে।
বনবিভাগ ও জেলেরা জানান, প্রথম দফায় গত শুক্রবার রাতে সুন্দরবন সংলগ্ন পশ্চিমাঞ্চলের সাগরে একটি ট্রলার সহ ৮ জেলেকে অস্ত্রের মুখে তুলে নেয় জলদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী। পরে গত সোমবার দিনগত মধ্যরাতে দুবলার চর সংলগ্ন পূর্বাঞ্চলের সমুদ্রে মাছধরা অবস্থায় জেলেবহরে অতর্কীত হামলা চালিয়ে দুটি ট্রলার ও জাল সহ ২০ জেলেকে অপহৃরন করে জলদস্যু করিম শরিফ বাহিনী। অপহৃত জেলেরা দুবলার চর ও নারকেল বাড়িয়া চরাঞ্চালের অস্থায়ী মৌসুমি জেলে বলে জানিয়েছেন বনবিভাগের দুবলার চর টহল ফাঁড়ির কর্মকর্তা মিল্টন রায়। তিনি আরও জানান, গত শুক্রবার রাতে জলদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনীর হাতে অপহৃত ৮ জেলে মাথাপিচু ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা চাঁদা ও মক্তিপন দিয়ে দুবলার শুটকী পল্লীতে ফিরেছেন। তবে গত সোমবার জলদস্যু করিম শরিফ বাহিনীর হাতে ট্রলার সহ নারকেল বাড়িয়া চরের শংকর বিশ্বাস ও বিমল বিশ্বাসের মাছধরা ট্রলার-জাল সহ ২০ জেলে এখনও জিম্মি রয়েছে। মুক্তিপনের দাবিতে অপহৃত জেলেদের নিয়মিত মারধর করা  হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ফিরে আসা জেলেরা।
দুবলার চর ফিস্যারম্যান গ্রুপের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন বুধবার দুপুরে মুঠোফোনে জানান, দুবলার চরাঞ্চলে শুটকী মৌসুমী প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার জেলে অবস্থান করেছেন। সমুদ্রে জলদস্যুদের উৎপাত ও অপহৃনের ঘটনায় ভয়-আতংকে গত দুদিন ধরে জেলেরা ট্রলার ও জাল নিয়ে সমুদ্রে যাতায়াত এবং মাছ আহরন বন্ধ রেখেছেন।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন