এই দেশে এখন ভোট দেওয়া কোনো নাগরিক অধিকার নয়, এটি একপ্রকার গর্ভধারণ। চারদিক থেকে এত ভোটোপদেশ ছুটে আসছে যে বাঙালি আজ মানসিকভাবে গর্ভবতী—পেট নয়, মাথা ভারী হয়ে উঠেছে।
ঘুম থেকে উঠলেই এক উপদেশ—
“এই মার্কায় না দিলে দেশ ধ্বংস।”
দাঁত মাজতে মাজতে আরেকটা—
“ওই মার্কায় দিলে দেশ উদ্ধার।”
চা খেতে বসলে চিনি কম, উপদেশ বেশি।
ফেসবুক খুললে স্ক্রল নয়, প্রসববেদনা।
পাড়া-মহল্লা, চায়ের দোকান, বাসের জানালা, এমনকি শ্মশানঘাটেও ভোট শেখানোর ক্লাস চলছে। যে কোনো সাধারণ মানুষ এখন আর ভোটার নয়, সে পরীক্ষার্থী। প্রশ্ন একটাই— “তুমি কার কথা ভেবে ভোট দিচ্ছ?” ভুল উত্তর দিলে সঙ্গে সঙ্গে দেশদ্রোহীর তকমা।
সবচেয়ে মজার বিষয়, যাঁরা জীবনে কখনো লাইনে দাঁড়াননি, যাঁরা বিল দিতে ভুলে যান, যাঁরা নিজের সন্তানকে সময় দিতে পারেন না—তারাই এখন ভোটের নৈতিক অভিভাবক। তাঁরা জানেন, আপনি কাকে ভোট দেবেন, কেন দেবেন, এমনকি কোন আবেগে দেবেন।
ভোটের আগে বাঙালি কখনো এত গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। হঠাৎ করেই সে হয়ে উঠেছে “রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ”, “গণতন্ত্রের মেরুদণ্ড”, “শেষ ভরসা”। অথচ ভোটের পর সেই বাঙালিই আবার “অপরিণত”, “অজ্ঞ”, “ভুল বোঝা মানুষ”।
এই যে অতিরিক্ত ভোটোপদেশ—এটাই আসলে উপসর্গ। গণতন্ত্র নয়, গর্ভাবস্থা। প্রসব কবে হবে জানা নেই, তবে ব্যথা শুরু হয়ে গেছে।
আর বাঙালি? সে চুপচাপ বসে আছে—হাত বুকে, মাথা ঝিমিয়ে—ভাবছে,
“ভোটটা কি আমি দেব, না ভোটটাই আমাকে জন্ম দেবে?”




