মদনে ভুয়া দলিল দিয়ে রেজিস্ট্রি করতে গিয়ে সাব-রেজিস্টারে কাছে জব্দ

 নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ভুয়া বায়না দলিলের নকল ব্যবহার করে দলিল নিবন্ধনের জন্য উপস্থাপনের অভিযোগে দলিল লেখক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. রহিছ মিয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন মদন উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মো. জাহিদ হাসান। একই সঙ্গে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাকে দলিল-সংক্রান্ত সব ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ জুন ২০২৬ তারিখে লেখক সনদ নম্বর-৪৪৭ধারী দলিল লেখক মো. রহিছ মিয়া প্রস্তুতকৃত একটি দলিল নিবন্ধনের জন্য কার্যালয়ে উপস্থাপন করেন।
দলিলটি যাচাই-বাছাইয়ের সময় নামজারি ও বায়না দলিলের নকল পর্যালোচনায় দেখা যায়, দাখিল করা বায়না দলিলের নকলটি ভুয়া ও জাল। এ বিষয়ে দলিল লেখক ও সংশ্লিষ্ট পক্ষদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৮ জুন ২০২৬ তারিখে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, এ ধরনের কর্মকাণ্ড নিবন্ধন আইন, ১৯০৮, দলিল লেখক (সনদ) বিধিমালা, ২০১৪ এবং জেলা রেজিস্ট্রারের অফিস আদেশের পরিপন্থী। তাকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়। পাশাপাশি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দলিল মুসাবিদা, প্রস্তুত, লিখন, নিবন্ধনে সহায়তা, দলিলের নকল বা তথ্য সংগ্রহ এবং মূল দলিল সরবরাহসহ সব ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, নোটিশ পাওয়ার পরও রহিছ মিয়া সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সামনে তার চেম্বারে বসে সহকারীদের মাধ্যমে আগের মতোই দলিল-সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, পদারকোনা মৌজার কয়েকটি বিএস/বিআরএস রেকর্ডভুক্ত জমির ক্ষেত্রে ১৯৮৫ ও ১৯৮৬ সালের তিনটি কথিত ভুয়া দলিলের ভিত্তিতে ১৩ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে নামজারি খারিজ খতিয়ান খোলা হয়।
দলিলের এক গ্রহীতা মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, “আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। জমিটি মূলত আছাব আলীদের দখলে। তারাই কাগজপত্র ঠিক করেছে বলে আমাকে জানিয়েছে।”
অভিযোগের বিষয়ে দলিল লেখক রহিছ মিয়া বলেন, “এই বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই।”
মদন উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মো. জাহিদ হাসান বলেন, “বায়না দলিলের নকল সম্পর্কে দলিল লেখক ও সংশ্লিষ্ট পক্ষ সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। তাই কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং তাকে সব কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। তিনি নোটিশের জবাব দিয়েছেন। বিষয়টি জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত জেলা রেজিস্ট্রার গ্রহণ করবেন।”

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

পেকুয়া উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নে বন্যাদুর্গত পাঁচশত পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দিলো আইএসডিই বাংলাদেশ

কক্সবাজারে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চকরিয়া, পেকুয়া ও নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার ৫

সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল ও সদর থানা পুলিশের অভিযানে দস্যুতা চক্রের ১০ সদস্য আটক লুণ্ঠিত ইজিবাইক, মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা উদ্ধার

ঝিনাইদহে ইজিবাইক চালককে অপহরণ করে হাত-পা ও মুখ বেঁধে ইজিবাইক