রাজবাড়ীর পাঁচ উপজেলায় আইন অমান্য করে প্রকাশ্যে কাঠ জ্বালিয়ে ইট পোড়ানো হচ্ছে। জেলার ৬৫টি ইটভাটার মধ্যে মাত্র ১৯টির পরিবেশগত ছাড়পত্র থাকলেও বাকি ৪৬টি অবৈধভাবে চলছে। অর্থাৎ ৭০ শতাংশ অবৈধ। সীমিত অভিযানের কারণে অবৈধ ভাটাগুলো আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এতে একদিকে যেমন কৃষিজমি ও পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা পড়ছেন স্বাস্থ্যঝুঁকিতে। পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, সদর, গোয়ালন্দ, পাংশা, বালিয়াকান্দি ও কালুখালী উপজেলায় এসব ইটভাটা গড়ে উঠেছে। গত মঙ্গলবার বালিয়াকান্দির জামালপুর ইউনিয়নের নলিয়া জামালপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, আব্দুল জলিল নামে এক ব্যক্তি তিন ফসলি জমিতে ইটভাটা নির্মাণ করে প্রকাশ্যে কাঠ পোড়াচ্ছেন। এর আগে একই স্থানে ভাটা না করার মুচলেকা দিয়ে পরিবেশ আদালত থেকে খালাস পান তিনি। এ ছাড়া নবাবপুর ইউনিয়নের ইন্দুরদী গ্রামেও ভাড়া নেওয়া আরেকটি ভাটায় কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। শুধু একটি বা দুটি নয়- পাংশা, কালুখালী, সদর ও গোয়ালন্দের অধিকাংশ ভাটাতেই একই চিত্র। সদর উপজেলার দর্পনারায়ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে ‘ইএমবি ব্রিকস’ নামের একটি অবৈধ ভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। ট্রাক ও ভারী যন্ত্রের শব্দে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। এক ইটভাটা মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কাঠ না পোড়ালে লাভ কম হয়। শ্রমিক ফিরোজ জানান, কাঠ ব্যবহার করলে প্রতি ইটে খরচ পড়ে ৮ টাকা, কয়লায় ১০-১১ টাকা। বর্তমানে প্রতি হাজার ইট সাড়ে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কৃষক উমর আলী বলেন, প্রতিদিন ফসলি জমির উর্বর মাটি কেটে ভাটায় নেওয়ায় আবাদি জমি কমছে, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবেশ। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. শহিদুল ইসলাম বলেন, অধিকাংশ ভাটা কৃষিজমিতে স্থাপিত হওয়ায় ফসল উৎপাদনে বিপর্যয় ঘটছে।
বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান জানান, একটি ভাটাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও কিলন ভেঙে দেওয়া হয়েছে, অন্যগুলোর বিরুদ্ধেও অভিযান চলবে। পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক পারভেজ আহমেদ বলেন, এ বছর এখন পর্যন্ত ৩টি অভিযান ও ৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযান চলমান রয়েছে।




