পার্বত্য অঞ্চলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহাবস্থানের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। খাগড়াছড়ি জেলার গুইমারা উপজেলার সিন্দুকছড়ি ইউনিয়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত ২০ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি-এর সিন্দুকছড়ি জোন স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অর্থ সহায়তা প্রদান এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে মানবিকতা ও ধর্মীয় সহনশীলতার অনন্য নজির স্থাপন করেছে।
জানা যায়, পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক, আর্থ-সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। স্থানীয় জনগণের কল্যাণে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগের পাশাপাশি ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতেও সেনাবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গুইমারা উপজেলার সিন্দুকছড়ি ইউনিয়নের মুড়াপাড়া এলাকায় ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের উদ্যোগে আয়োজিত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় অনুষ্ঠান “শ্রীশ্রী সার্বজনীন মহাযজ্ঞ” উপলক্ষে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় সিন্দুকছড়ি জোন। অনুষ্ঠানটি নির্বিঘ্ন ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয় এবং সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়।
অনুষ্ঠানে সিন্দুকছড়ি জোনের পক্ষ থেকে জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর মোঃ মাজহার হোসেন রাব্বানী এবং ক্যাপ্টেন মোঃ আসিফ বিন ফারুক উপস্থিত থেকে পুরো কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। তারা আয়োজকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস প্রদান করেন।
এ সময় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আয়োজকদের হাতে নগদ অর্থ সহায়তা তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি অনুষ্ঠান চলাকালীন সময়ে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। সেনাবাহিনীর এই সহযোগিতায় স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষ শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে সক্ষম হন।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা সেনাবাহিনীর অন্যতম দায়িত্ব। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি প্রতিরোধ এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা সবসময় প্রস্তুত রয়েছে। পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদার করতেই এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়ে থাকে।
এদিকে সেনাবাহিনীর এমন মানবিক উদ্যোগে সন্তোষ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের আয়োজকরা। তারা জানান, সেনাবাহিনীর সহযোগিতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ভবিষ্যতেও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, পার্বত্য অঞ্চলে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী ও ধর্মাবলম্বী মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এর মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় হবে এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পরিবেশ আরও মজবুত হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।




