৫১ একান্ন দিনেও বিচার পাইনি রাফির পরিবার গ্রেফতার ১ অন্যরা পলাতক

গত ৮/৫/২৬ তারিখ মুক্তাগাছা জমিনপুর রোজ শুক্রবার দিনটি মুসলিম উম্মাহর জন্য ঈদের দিনের মতো হলেও আন্দালিব সাদমান রাফি-র ( ৮)  জন্য হয়ে উঠে নির্মম, নির্যাতন, কঠিন, পৈশাচিক ও  অমানসিক হত্যাযজ্ঞ সময় দিন । পাখির বাচ্চা দেওয়ার কথা বলে রাসেল বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় ঘাতকের সম্পূর্ণ পরিকল্পনায় তার বাড়ির পশ্চিম পাশে  নির্জন স্থানে নিয়ে যায় । তারপর রাফিকে লাথি দিয়ে পানিতে ফেলে। যখন রাফি উঠে আসার চেষ্টা করে তখন ঘাতক লাব দিয়ে পানিতে নেমে রাফির ঘাড় মটকে দেয়। তারপর পানিতে  ডুবিয়ে নির্মম নির্যাতন করে হত্যা করে। রশি দিয়ে বাঁশের খুঁটির সাথে বেঁধে তলিয়ে রাখে যাতে ভেসে উঠতে না পারে । মারার আগে খেলার ছল সময়ের অংশটুকু পাশের বাড়ির এক মেয়ে বয়স ১৫ দেখতে পায় । এই পরিকল্পনা অনেকদিন আগে থেকে চলছে ঘটনার সূত্রপাত ঘটে অনলাইন জুয়ায় খোকন নামে ঘাতককে বাধা দেওয়ার কারণে । রাসেল খোকনের ব্যক্তিগত বন্ধু সারাক্ষণ তার সাথে বিচরন ।
ঘটনার দিন সকাল ১১ টার দিকে রাফিকে তার পিতা জহিরুল ইসলাম রাস্তার পাশে খেলতে দেখে বাড়িতে যেতে বলে সে অন্যত্র চলে যায়  উল্লেখ্য শুক্রবার দিন রাফির মাদ্রাসা বন্ধ থাকায় সে বাড়িতে চলে আসে জুম্মার নামাজের পর থেকে তাকে অনেক খোঁজাখুঁজির পর পাওয়া যায়নি পরে তাকে খোঁজ করার জন্য মাইকিং করা হয়  । মাইকিং এর সাথে সঙ্গ দিতে  ঘাতক খোকন তাদের সাথে মাইকিং প্রচার কাজে সহযোগিতা করে যাতে তাকে সন্দেহ না করে এর আগে বিকাল ৫টার দিকে  রাফির পিতা জহিরুল ইসলাম এর বন্ধু লোকমান এর হোয়াটসঅ্যাপে অচেনা নাম্বার হতে রাফিকে উদ্ধার করার জন্য ৭ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এস এম এস করে। এবং মোবাইল নাম্বার নিয়ে যাতে ঘাটাঘাটি না করে সেই শর্ত জারী করে ঘাতক ঘটনার মোড় ঘোরাতে নিরীহ লোকমান কে ফাঁসানোর চেষ্টা চালায়। রাত ১০-১১ টায় রাফিকে না পেয়ে মুক্তাগাছা থানায়  জানান ভুক্তভোগী পরিবার। এক পর্যায়ে সন্দেহের তীর খোকনের দিকে গেলে তাকে মুক্তাগাছা এক বাসায় নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে খোকন বলে সে কাউকে দিয়ে কিডন্যাপ করা হয়েছে  এখন আমার কোন ক্ষতি না হলে আগামীকাল তাকে ফেরত এনে দিবো। ভুক্তভোগী পরিবার তার কথায় রাজি হয়ে সন্তান ফেরত পাওয়ার আশায় খোকনকে নজরে রেখে উক্ত বিষয়ে পুলিশকে জানায় ।  রাতে মুক্তাগাছা থানা পুলিশের কয়েকটি চৌকস দল গোপনে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায় । ১৫ বছরের মেয়ের কথা শুনে তাদের পুকুরে জাল ফেলে এলাকাবাসী।  পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় খোঁজা-খুজি করে। তার আগেই খোকন তার পরিবারের সহযোগিতায় লাশটি কে  হাত পা ভেঙ্গে বস্তার ভেতর তাদের টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকির ভিতরে ঢুকিয়ে লুকিয়ে রাখে খোকনের আপন বড় ভাই বুলু মিয়া ও তার মা কাজলী । পুকুরে না পেয়ে পুলিশের অভিযান বিভিন্ন স্থানে অব্যাহত থাকে পরদিন সকাল গড়িয়ে দুপুর পর্যন্ত রাফি -কে এনে দিতে না পাড়ায় খোকনকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় পুলিশ। খুনি খোকনকে গ্রেফতার ১৫ মিনিট পর খুনির মা কাজলী শাহাদাত নামক একটি ছেলের কাছে স্বীকার করে রাফিকে  তার ছেলে খোকন মেরে বস্তাবন্দি করে সেপটিক ট্যাংক এর ভিতরে  ফেলে রেখেছে।তারপর এলাকাবাসী গিয়ে টয়লেটের সেফটি ট্যাংক থেকে লাশটি উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে মুক্তাগাছা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে ।
মহান জাতীয় সংসদে প্রথমে বিরোধী দলের এম.পি সাবিকুন্নাহার মুন্নী ও পরে সরকার  দলীয় এমপি জাকির হোসেন বাবলু।   দুই জনেই দ্রুত বিচার কাজ সম্পন্ন করার দাবীতে কথা বলে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি রামিসা হত্যার বিচার এর মত দোষী ঘাতকদের দ্রুত গ্রেফতার করে বিচার কার্য সম্পন্ন করা হলে এমন পৈশাচিক নির্মম নির্যাতন হত্যাকাণ্ড থেকে রেহাই পেতে পারে বাঙালির নিষ্পাপ বহু সন্তান এমনটিই দাবি করেন আন্দালিব সাদমান রাফির মা-বাবা।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন