লালমোহন-তজুমদ্দিন (ভোলা ৩)-এ এতদিন মনে হয়েছে নিজামুল হক নাঈম বুঝি মেজর হাফিজের ঘাটি হিসেবে পরিচিত এ আসন ছুটাতে পারবে না।
কিন্তু অবজারভেশন এবার চেঞ্জ হয়েছে। কিছু সমীকরণ অবজারভেশনে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
তজুমদ্দিন উপজেলা ভোলা ৩-এর গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল— প্রায় ১.৫ লাখ জনসংখ্যার এ অঞ্চল ঠিক করে দিবে ২০২৬ নির্বাচনে কে হবেন এমপি? লালমোহন উপজেলা মেজর হাফিজ এবং নিজামুল হকের জন্মস্থান। আবার উভয়ের বাড়িও কিলো একের ভেতরে। যার ফলে লালমোহনে উভয়ের একটা শক্ত ভোট ব্যাংক গড়ে উঠেছে। মেজর হাফিজের তো আগে থেকেই ছিল— কিন্তু নিজামুল নাঈম তাতে গিয়ে শক্ত ভাগ বসিয়েছে।
এদিকে তজুমদ্দিনে রয়েছে মেজর হাফিজের কয়েকটি বিদ্রোহী গ্রুপ। যারা বিএনপি সমর্থক হলেও মেজর হাফিজকে চান না। এদের অনেকে আবার আড়ালে আবডালে নিজামুল হকের ফুলকপির প্রচারণাও চালাচ্ছে। প্রচারণা না চালাতে পারলে গ্রুপ ধরে ফুলকপিতে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ভোলার বাস্তবতা হচ্ছে, ম্যাক্সিমাম নিরব ভোটার। বিএনপির পেশিশক্তির ভয়ে সরাসরি ফুলকপি বা দাঁড়িপাল্লার প্রচারণায় যাচ্ছেন না কিংবা কোনো সমাবেশও অংশগ্রহণ করছেন না। অনেকে বিএনপির সমাবেশেও যেতে বাধ্য হচ্ছে— কিন্তু ভোট দিবে ফুলকপিতে।
আবার মেজর হাফিজের ইদানীংকার অহংকারসুলভ কথাবার্তা, বিপরীত প্রার্থীর প্রচারণায় ব্যাপক বাধা, মেজর হাফিজের কর্মীদের নিয়ন্ত্রণহীন দুর্নীতি ও পেশিশক্তির প্রভাব দেখানোর ফলে ভোটার মন পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে। কট্টর মেজর হাফিজ সমর্থকও এবার ভোট দিবে ফুলকপিতে। দ্বিতীয়ত জাতীয় প্রভাব তৈরি হয়েছে ভোলার ধর্ম ও নিরবতা প্রাণ জনসাধারণের। সারাদেশের মত এ আসনেও তারা পরিবর্তন চান।
গত ২৯ জানুয়ারি সমকালে প্রকাশিত হওয়া “মেজর হাফিজের ঘাঁটি দখলে নিতে চান নিজামুল’ প্রতিবেদন মিথ্যা না সত্য এটা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে আগামী ১২ তারিখ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত।।




