বৃহস্পতিবার,৩০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের দ্বৈত পেশা ও রাজনীতি আইনের তোয়াক্কা না করেই চলছে অনিয়ম

তজুমদ্দিন উপজেলায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কিছু অনিয়ম ও দুর্নীতি,
বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষক বা কর্মচারী নিজ প্রতিষ্ঠানের বাইরে একই সাথে একাধিক পদ, চাকরি, লাভজনক ব্যবসা কিংবা দলীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকতে পারবেন না। কিন্তু এই নীতিমালার তোয়াক্কা না করেই চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কিছু শিক্ষক ও কর্মচারী একই সাথে ভিন্ন পেশা, ব্যবসা এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের দলীয় রাজনীতিতে সরাসরি অংশ নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি আনন্দ শোভাযাত্রার ব্যানার ও ছবিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এমপিও নীতিমালায় যা নিষিদ্ধ ও শাস্তির বিধান:
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন ও জনবল কাঠামো নীতিমালা অনুযায়ী:
১. দ্বৈত চাকরি ও লাভজনক পদ: এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষক-কর্মচারী একই সঙ্গে একাধিক কোনো পদে, চাকরিতে বা আর্থিক লাভজনক পদে নিয়োজিত থাকতে পারবেন না। এর মধ্যে পূর্ণকালীন ইমামতি বা খতিবের দায়িত্ব পালন, প্রাইভেট টিউশনি, ঠিকাদারি বা অন্য কোনো লাভজনক পেশাও অন্তর্ভুক্ত।
২. রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড: সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো এমপিওভুক্ত শিক্ষক বা কর্মচারী সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলের পদ বা দলীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে পারবেন না। কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের চাটুকার বা বিশেষ সহকারী হিসেবে কাজ করাও নিষিদ্ধ।
শাস্তির বিধান:
এই নীতিমালা ও শৃঙ্খলা বিধি ভঙ্গ করলে তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক বা কর্মচারীর এমপিও (সরকারি বেতন-ভাতা) স্থায়ীভাবে বাতিল, সাময়িক বরখাস্ত বা চূড়ান্তভাবে চাকরিচ্যুতির মতো কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে।
পূর্ব গোলপুর কাসিমুল উলুম আলিম মাদ্রাসার চিত্র:
অভিযোগ উঠেছে, চাঁদপুরের পূর্ব গোলপুর কাসিমুল উলুম আলিম মাদ্রাসার বেশ কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মচারী খোদ সরকারি এই কঠোর নীতিমালা লঙ্ঘন করে বহাল তবিয়তে দ্বৈত পেশা এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। তথ্য অনুযায়ী অভিযুক্তরা হলেন:
মাওলানা আইয়ুব আলী (অধ্যক্ষ): তিনি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদে দায়িত্ব পালন করা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানের নিয়মনীতি উপেক্ষা করে একটি মসজিদে খতিব এবং ইমামতির দ্বৈত দায়িত্বে যুক্ত রয়েছেন।
ক্বারী মোঃ ফারুক (শিক্ষক): তিনিও মাদ্রাসায় শিক্ষকতার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের বাইরে একটি মসজিদে ইমাম ও খতিব হিসেবে অতিরিক্ত চাকরি করছেন।
কেরানী মোঃ বেল্লাল ভূঁইয়া (কর্মচারী): তিনি মাদ্রাসার চাকরির পাশাপাশি নিয়মিত একটি ওষুধের দোকান (লাভজনক ব্যবসা) পরিচালনা করছেন। এর চেয়েও বড় অভিযোগ হলো, তিনি বাংলাদেশে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের ‘চাঁদপুর ইউনিয়ন উত্তর শাখা যুবলীগ’-এর সাংগঠনিক সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদ আঁকড়ে ধরে সক্রিয়ভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন।
ব্যানারই দিচ্ছে সক্রিয় রাজনীতির প্রমাণ:
ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, উল্লিখিত ব্যক্তিরা দেশের নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মসূচির একটি বিশাল ব্যানার সামনে নিয়ে আনন্দ শোভাযাত্রায় অংশ নিচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি কোষাগার থেকে শতভাগ বেতন-ভাতা গ্রহণ করেও তারা মাদ্রাসার নিয়মিত পাঠদান ও দাপ্তরিক কাজ ব্যাহত করে দলীয় রাজনীতি এবং ব্যক্তিগত ব্যবসায় সময় দিচ্ছেন, যা সরাসরি সরকারি আইন ও শৃঙ্খলা বিধির পরিপন্থী।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যেন এই ধরনের আইন অমান্যকারী শিক্ষক ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত এমপিও বাতিলসহ কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

test123123

test123123

test123123

test123123