কালিগঞ্জে সংখ্যালঘু পরিবারের মৎস্য ঘের জবরদখল-থানায় অভিযোগ

আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও বিচারাধীন মামলা তোয়াক্কা না করেই সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে এক সংখ্যালঘু পরিবারের পৈত্রিক সম্পত্তি ও মৎস্য ঘের জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার কুলিয়া দুর্গাপুর মৌজায় দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলীয় জমিতে প্রবেশ করে মাছ লুটে নেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এই ঘটনায় উপজেলার ঘোজাডাঙ্গা গ্রামের মৃত সন্তোষ কুমার বৈদ্যের পুত্র উৎপল বৈদ্য (৪৮) বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮-১০ জনের বিরুদ্ধে কালিগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে ও সরেজমিনে আজ ২ জুন মঙ্গলবার জানা যায়, উপজেলার কুলিয়া দুর্গাপুর মৌজার এসএ খতিয়ান নং-২৬৮ ও ২৬৯ এবং দাগ নং-১৬০ ও ১৬৮-এর অন্তর্ভুক্ত ১.২১ একর পৈত্রিক সম্পত্তি গত ৫০ থেকে ৬০ বছর ধরে উৎপল বৈদ্যের পরিবার শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে ধান ও মৎস্য চাষ করে আসছিলেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই এই সম্পত্তি জবরদখলের অপচেষ্টা চালিয়ে আসছিল স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল।

এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে আদালতে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে সাতক্ষীরার যুগ্ম জেলা জজ ২য় আদালতে দেওয়ানি মামলা (নং-২৮/২৫) এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারার মামলা উল্লেখযোগ্য। ভুক্তভোগীদের দাবি, সরকারি তদন্ত প্রতিবেদনেও জমির ওপর তাদের বৈধ অবস্থানের বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ২০ মে ২০২৬ তারিখ ভোর আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে অভিযুক্ত আব্দুর রহিম (৫০), আকবর আলী (৫৫), আব্দুল্লাহ (৫০), ইব্রাহিম (২৪), ধ্রুব বৈদ্য (৫৫), সমিরন বৈদ্য (৩৫) ও শুকদেব মন্ডল (৫৫) সহ একদল সশস্ত্র ব্যক্তি আকস্মিকভাবে মৎস্য ঘেরে প্রবেশ করে। তারা জোরপূর্বক ঘের থেকে আনুমানিক ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের মাছ ধরে নিয়ে যায় এবং ঘেরের ভেড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করে।

এ সময় উৎপল বৈদ্য ও তার পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে অভিযুক্তরা ধারালো দা, কুড়াল ও শাবল নিয়ে তাদের দিকে তেড়ে আসে এবং অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজসহ প্রাণনাশের হুমকি দেয়। জীবন বাঁচাতে ভুক্তভোগীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। বর্তমানে অভিযুক্তরা জমি ও ঘের দখলের কার্যক্রম অব্যাহত রাখায় যেকোনো সময় বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানার জন্য তাদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনগুলো বন্ধ থাকায় কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। “অভিযোগটি আমরা হাতে পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, দীর্ঘদিনের এই জমি সংক্রান্ত বিরোধের একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। দ্রুত আইনি পদক্ষেপ না নিলে এলাকার শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট হতে পারে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

আসন্ন ২০২৬-২৭ বাজেটে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বাজেট বৃদ্দির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত

চট্টগ্রাম, ৪ জুন ২০২৬: বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চলমান অস্থিরতা, জীবাশ্ম জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুৎ