প্রচণ্ড গরমে শ্রেণিকক্ষে ফ্যান ঘোরে না, বাল্ব জ্বলে না। স্যানিটেশন ব্যবস্থার বেহাল দশায় নারী শিক্ষার্থীরা দুর্ভোগে পড়েছেন। পানির জন্য আশপাশের বাড়িতে যেতে হচ্ছে। নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার খগা বড়বাড়ী বালিকা দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে বৈদ্যুতিক লাইন ও স্যানিটেশন সমস্যায় পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকলেও প্রায় এক মাস ধরে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষের বৈদ্যুতিক লাইন নষ্ট রয়েছে। ফলে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অসহনীয় গরম ও অন্ধকারে ক্লাস করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
শিক্ষার্থীরা জানান, বিদ্যালয়ের টিউবওয়েল দীর্ঘদিন নষ্ট থাকায় পানি পান করতে হচ্ছে আশেপাশের বাড়িতে। স্কুল কর্তৃপক্ষ থেকে জগ বা মগসহ কোনো সুবিধা দেওয়া হয়নি। নারী শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা নেই।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, “শিক্ষকদের কক্ষে ফ্যান ও আলো স্বাভাবিকভাবে চলছে। কিন্তু আমাদের শ্রেণিকক্ষের লাইন নষ্ট, ফ্যান ও বাল্ব জ্বলছে না। বৈদ্যুতিক লাইন সংস্কারের কথা বলে প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ২০০ টাকা করে চাওয়া হয়েছিল, তবে টাকা আদায় করা হয়নি।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. মারুফা বেগম এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের কাছে পরীক্ষার ফি চাওয়া হয়েছে। বৈদ্যুতিক লাইন সংস্কারের জন্য কোনো টাকা দাবি করা হয়নি। স্যানিটেশন ব্যবস্থা যথেষ্ট ভালো। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে।”
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রধান শিক্ষক ও অন্যান্য শিক্ষকদের কক্ষে বৈদ্যুতিক সংযোগ সচল রয়েছে এবং ফ্যান-বাল্ব চলছে। অথচ শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষের লাইন নষ্ট থাকায় ফ্যান ও বাল্ব অচল। এই বৈষম্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি করেছে।
ডিমলা উপজেলার ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোছা. আফরোজা বেগম বলেন, “বৈদ্যুতিক লাইন সংস্কারের নামে কোনো টাকা গ্রহণের সুযোগ নেই। এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




