ভোলা জেলার ঐতিহ্যবাহী বোরহান উদ্দিন এলাকায় চলতি মৌসুমে গমের ব্যাপক ফলনে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। কৃষক-কৃষাণিরা এখন গম কাটা ও মাড়াইয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।(২৩ফেব্রুয়ারি) রবিবার ভোলা জেলার বোরহান উদ্দিন এলাকায় গমের ব্যাপক বাম্পার ফলন হয়েছে কৃষকের মুখে হাসি আগের তুলনায় এবার ভালো ফসল ফলন হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ২১০ হেক্টর জমিতে গম চাষ করা হয়েছে। ২০০ হেক্টর জমিতে গম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫০ হেক্টর বেশি জমিতে গম চাষ করেছে কৃষক। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর গমের ভালো ফলন হয়েছে। বাজারে গমের ভালো দাম পাওয়ায় খুশি তারা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গাছসহ গমের শিষ পেকে সোনালি রং ধারণ করেছে। সোনালি আভায় ঢেকে আছে মাঠ। যেন চারদিকে গমের সেই সোনালি রঙে নয়ন জুড়ানো দৃশ্য মেতে উঠেছে ফসলের মাঠে। হলুদণ্ডসোনালি রঙে সাজিয়ে তুলেছে প্রকৃতির রূপকে। মাঠে মাঠে শুরু হয়েছে গম কাটার কাজ। গম কাটা, শিষ থেকে গম ছাড়ানোসহ বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন চাষিরা। গতবারের তুলনায় এবার গমের বাম্পার ভালো ফলন হওয়ায় প্রতিটি কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।
বোরহানউদ্দিন ইউনিয়নের আনোয়ার সহ কয়েকজন স্থানীয় কৃষক জানান, দিন দিন গম চাষ কমছে। লাভ কম, শ্রমিক সংকট, মাড়াইয়ের সমস্যা, বৈরী আবহাওয়া ও ভালো মানের বীজের অভাবে চাষিরা গম চাষে তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। গত কয়েক বছরের মধ্যে এ বছর গমের ফলন ভালো হয়েছে। বর্তমান বাজারে প্রতি মণ গম ১ হাজার, ৩৯০ থেকে ১ হাজার ৪০০টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে প্রতি মণ গম ১ হাজার ৪৫০থেকে ১ হাজার ৫০০টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ফলে এ বছর গমে একটু বেশি লাভ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, এ মৌসুমে উপজেলার ৩০৯ হেক্টর জমিতে গমের আবাদ হয়েছে। গমের ভালো ফলন হওয়ায় কৃষকরা খুশি। উন্নত জাতের ফসল উচ্চফলনশীল গম বীজ দিয়ে তারা ফসল ফলিয়েছে। ফলন ও ভালো দাম পাওয়ায় আগামী বছর গমের আবাদ আরো বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি।




