উচ্চশিক্ষাকে কর্মবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে দেশের ১২ হাজার কলেজ শিক্ষককে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। গতকাল রাজধানীর ধানমন্ডিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।
তিনি বলেন, দেশের ৬৪ জেলার ৫০০টি উপজেলায় বিস্তৃত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ২ হাজার ২৮৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর ও দক্ষতাভিত্তিক করার বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়।
উপাচার্য জানান, চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিজিটাল অর্থনীতি এবং বৈশ্বিক কর্মবাজারের পরিবর্তিত চাহিদা বিবেচনায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক পর্যায়ে আইসিটি কোর্স বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সরকারের এটুআই প্রকল্প ও ইউনিসেফ বাংলাদেশের সহযোগিতায় এ কোর্সের পাঠ্যক্রম প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, শিক্ষার্থীদের কার্যকর আইসিটি শিক্ষা নিশ্চিত করতে দক্ষ প্রশিক্ষকের প্রয়োজন রয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ১২ হাজার কলেজ শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে ৮৯ জন কোর ট্রেইনার এবং ৮৪০ জন মাস্টার ট্রেইনার প্রস্তুত করা হয়েছে।
আগামীকাল রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই অনুষ্ঠানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাল্টি ল্যাঙ্গুয়েজ ইনস্টিটিউট এবং ‘ওয়ান স্টুডেন্ট, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচিরও উদ্বোধন করা হবে।
ড. আমানুল্লাহ বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ উপযোগী দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলা, কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা এবং উদ্যোক্তা ও ফ্রিল্যান্সিং সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্প-একাডেমিয়া সংযোগের হার প্রায় ১০ শতাংশ। ২০৩০ সালের মধ্যে এটি ৫০ থেকে ৬০ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মাল্টি ল্যাঙ্গুয়েজ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় একটি ভাষা শেখার সুযোগ পাবে শিক্ষার্থীরা। রাজধানীর কয়েকটি কলেজে এর কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য কলেজেও সম্প্রসারণ করা হবে।
পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘ওয়ান স্টুডেন্ট, ওয়ান ট্রি’ প্রকল্পের আওতায় আগামী পাঁচ বছরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থী প্রতি বছর একটি করে গাছ রোপণ করবে বলেও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. এ টি এম জাফরুল আজম এবং রেজিস্ট্রার মোল্লা মাহফুজ আল-হোসেন উপস্থিত ছিলেন।




