পুলিশের কথিত সোর্স ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে ভারতীয় নাসির বিড়ি ও মাদকের হাট বসানোসহ একের পর এক সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ওঠার পরও সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ভুক্তভোগীদের থানায় এসে জিডি করার পরামর্শ দিয়েছেন ওসি আমিনুল ইসলাম।
মাদক কারবারিদের আইনের আওতায় আনার রাষ্ট্রীয় নির্দেশনা থাকলেও অভিযোগ রয়েছে, তাহিরপুর থানার ওসি ও কিছু অসৎ পুলিশ সদস্য আমদানি নিষিদ্ধ ভারতীয় শেখ নাসির উদ্দিন বিড়ির হাট বসানোর আড়ালে মাদক কারবারিদের সোর্স হিসেবে ব্যবহার করে মাসোহারা হিসেবে লাখ লাখ টাকা নিচ্ছেন।
একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, আমদানি নিষিদ্ধ ভারতীয় বিড়ি, ইয়াবা, গাঁজা, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মাদক, নৌপথে কয়লা-চুনাপাথর, কসমেটিকস, খাদ্যসামগ্রী, থান কাপড় ও গবাদিপশু চোরাচালান এবং জাদুকাটাসহ একাধিক সীমান্ত নদীতে ড্রেজার ও সেইভ মেশিন দিয়ে নদীর তীর কেটে কোটি কোটি টাকার খনিজ বালি-পাথর লুটের ঘটনায় গোপন সমঝোতার মাধ্যমে তাহিরপুর থানার ওসি ও কিছু পুলিশ সদস্য ঘুষকাণ্ডে জড়িত।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, থানায় যোগদানের পর ওসি আমিনুল ইসলাম তার ব্যক্তিগত সোর্স মোটরসাইকেল চালক উজ্জলের মাধ্যমে একাধিক মামলার আসামির ভাইয়ের কাছ থেকে একটি রঙিন টেলিভিশন উপহার নেন। এছাড়া জাদুকাটা নদীতে পাড় কাটা ও ড্রেজার মেশিনে বালি-পাথর উত্তোলনকারীদের কাছ থেকে আগাম ১৫ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, পরে একই নদীতে পরিবেশবিধ্বংসী ড্রেজার কার্যক্রম থেকে সোর্স উজ্জল ও থানার এসআই পংকজের মাধ্যমে দৈনিক কয়েক লাখ টাকা আদায় করা হচ্ছে। ইজারাবিহীন পাটলাই ও মাহারাম নদীর উৎসমুখেও একইভাবে খনিজ বালি উত্তোলন চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
তাহিরপুর সদর, বালিজুড়ি, বাদাঘাট, শ্রীপুরসহ সাতটি বিট এলাকায় ২৮-৩০ জন ভারতীয় বিড়ি ও মাদক কারবারি এবং অর্ধশতাধিক গবাদিপশু, কাপড়, খাদ্যসামগ্রী, মসলা ও কসমেটিকস চোরাকারবারির কাছ থেকে মাসিক ১৫-২০ লাখ টাকা ঘুষ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
বাদাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এক এএসআই মালেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি কথিত সোর্স বাবুলকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে চোরাকারবারিদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করছেন।
এছাড়া শ্রীপুর, বালিযাঘাট, বড়ছড়া ও লাকমা বাজার এলাকায় ভারতীয় বিড়ি ও মাদক কারবারিদের পাশাপাশি বড়ছড়া ও চারাগাঁও শুল্ক স্টেশনসংলগ্ন এলাকায় ভারত থেকে কয়লা-চুনাপাথর চোরাচালানকারীদের কাছ থেকেও অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। থানার ট্যাকেরঘাট অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ এসআই রিপনের মাধ্যমে ২৫-৩০ লাখ টাকা আদায় করে ভাগ-বাটোয়ারা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মাঝে মাঝে লোক দেখানো অভিযান চালিয়ে কয়েকজন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করে পূর্বের ঘুষের অর্থ বৈধ করার চেষ্টা করা হয়।
তাহিরপুরের বাসিন্দা আহমদ আলী রেজা জানান, এলাকাবাসী মাদক কারবারি ও চোরাচালানকারীদের উৎপাত, নদীর পাড় কাটা ও অবৈধ বালু উত্তোলন নিয়ে একাধিকবার অভিযোগ করলেও ওসি বিরক্তি প্রকাশ করে থানায় জিডি করার পরামর্শ দেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তাহিরপুর থানার ওসি (পূর্বে ডিবি পুলিশে কর্মরত থাকাকালে ইয়াবাকাণ্ডে বিভাগীয় মামলায় অভিযুক্ত) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা। একজন থানায় এসে একটি টেলিভিশন উপহার দিয়েছেন, তবে তার ভাই আসামি কি না আমি জানি না।
তিনি আরও বলেন, পুলিশের সোর্স হোক বা মাদক কারবারি—এলাকার মানুষ সমস্যা মনে করলে থানায় এসে জিডি করতে হবে। অন্যথায় পুলিশের কি করার আছে?




