তোমরা আমার চাকরিডা খাইয়ো না, শিক্ষার্থীদের কাছে শিক্ষকের আকুতি

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মহসীন। ঘরে তার এক প্রতিবন্ধী সন্তান রয়েছে।

গত ২৩ জুলাই তাকে বরগুনা সরকারি কলেজে বদলি করা হয়। একই সঙ্গে আরও ছয়জন শিক্ষককে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বদলি করা হয়।

উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে বিভিন্নভাবে যুক্ত থাকা ওই সাত শিক্ষকের বদলির ঘটনায় ফুঁসে উঠেছে পুরো কুমিল্লা। জলাবদ্ধতার দায়ে সাত শিক্ষককে বদলির প্রতিবাদে আন্দোলনে নেমেছেন কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা।

শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষক মোহাম্মদ মহসীন হাতজোড় করে তাদের আন্দোলন থেকে সরে যেতে অনুরোধ জানান।

একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘মা, আমরা সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা খাইয়ো না। তোমরা এখানে আন্দোলন করলে আমার চাকরিডা চলে যাবে।’ পরে তিনি শিক্ষার্থীদের পায়ে লুটিয়ে পড়েন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এক ঘণ্টা বৃষ্টি হলেই কলেজে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এর দায় কলেজের শিক্ষকদের হতে পারে না। তারা বলেন, ‘আমরা তো হেলিকপ্টারে করে কলেজে আসব না।’ একই ঘটনায় জলাবদ্ধতার জন্য দায়ী কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তারা এই ‘অমানবিক’ বদলি প্রত্যাহারের দাবি জানান।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজ-২ শাখার উপসচিব মো. আ. কুদ্দুস স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে সাত শিক্ষককে ওএসডি করে বদলির তথ্য জানানো হয়। আগামী ২৯ জুলাইয়ের মধ্যে তাদের বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হতে হবে।

বদলিকৃত শিক্ষকদের মধ্যে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ এ কে এম জহিরুল আলমকে চৌদ্দগ্রামের চিওড়া সরকারি কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে, গণিত বিভাগের অধ্যাপক মো. আবদুল মালেককে কক্সবাজার সরকারি কলেজে, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কনক বড়ুয়াকে নোয়াখালীর হাতিয়া দ্বীপ সরকারি কলেজে, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ উল্লাহ মজুমদারকে লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজে, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নূর মোহাম্মদ নূর উল্লাহকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর সরকারি কলেজে, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. আল-আমিনকে সিলেটের বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজে এবং ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মহসীনকে বরগুনা সরকারি কলেজে বদলি করা হয়।

এর মধ্যে উপাধ্যক্ষ এ কে এম জহিরুল আলম পরীক্ষা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তার ছেলে এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। আবদুল মালেক কনিষ্ঠ অধ্যাপক হওয়ায় সিনিয়ররা দায়িত্ব না নেওয়ায় তাকে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা করা হয়েছিল। কনক বড়ুয়া ছিলেন পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক। মোহাম্মদ মহসীন কলেজের শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক।

গত ১৮ জুলাই দুপুর ২টায় কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী কলেজ পরিদর্শনে যান। এ সময় তিনি কলেজের জলাবদ্ধতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়েও অসন্তোষ জানান। পরে শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠকে বসে সরকারের ও শিক্ষামন্ত্রীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

তবে শিক্ষকদের দাবি, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই এই কলেজে পরীক্ষাকেন্দ্র রয়েছে। সকালের বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা হলেও এই কেন্দ্রে কোনো পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল না। নির্ধারিত সময়েই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাদের ভাষ্য, বৃষ্টির কারণে পানি জমার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তাদের বদলি করা হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বদলি একটি নিয়মিত বিষয়। মন্ত্রণালয় প্রয়োজন অনুযায়ী যে কাউকেই বদলি করতে পারে।

গত ১৩ জুলাই সকালে অতিবৃষ্টির কারণে কলেজে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। তখন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু ডিঙি নৌকা ও ভ্যানগাড়ির ব্যবস্থা করেন। বিবেক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের কলেজে পৌঁছে দেওয়া হয়। কলেজের শিক্ষকেরাও ছাত্রীদের কেন্দ্রে পৌঁছাতে সহায়তা করেন।

জানা যায়, সম্প্রতি বৃষ্টির পানি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ সাতজন শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন এবং বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল ও সদর থানা পুলিশের অভিযানে দস্যুতা চক্রের ১০ সদস্য আটক লুণ্ঠিত ইজিবাইক, মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা উদ্ধার

ঝিনাইদহে ইজিবাইক চালককে অপহরণ করে হাত-পা ও মুখ বেঁধে ইজিবাইক

‎ব্রাহ্মণপাড়ায় জামায়াতে ইসলামীর দিনব্যাপী লিডারশীপ ট্রেনিং প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত

‎কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দিনব্যাপী লিডারশীপ ট্রেনিং