ময়মনসিংহে সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান মাহমুদা আক্তার বন্যাকে দেখতে চাওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে। স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সচেতন মহলের মতে, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং আদর্শিক অবস্থানের কারণে তিনি এই আসনের জন্য যোগ্য প্রার্থী।
মাহমুদা আক্তার বন্যা প্রয়াত নেতা কামরুল ইসলাম ওয়ালিদের পরিবার থেকে উঠে আসা একজন রাজনীতিক। কামরুল ইসলাম ওয়ালিদ ময়মনসিংহের রাজনীতিতে অত্যন্ত পরিচিত ও জনপ্রিয় মুখ ছিলেন। তিনি নাসিরাবাদ কলেজের দুইবার ভিপি, পৌরসভার সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান, কোতোয়ালি বিএনপির সভাপতি এবং ২০১৪ সালে ময়মনসিংহ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি আমৃত্যু রাজনৈতিক সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন।
সেই রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরসূরি হিসেবে ১৯৮৯-১৯৯০ সাল থেকে মাহমুদা আক্তার বন্যার রাজনৈতিক পথচলা শুরু। নাসিরাবাদ কলেজে ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে তার সক্রিয়তা শুরু হয়। নব্বইয়ের দশকে তিনি ছাত্রদলের নেত্রী এবং জাসাসের মহিলা সম্পাদিকা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি কোনো পদ-পদবীর জন্য কারও কাছে ধর্ণা দেননি বলে তার সহকর্মীরা জানান। বরং জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী একজন কর্মী হিসেবে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তিনি আপসহীনভাবে দলের আদর্শ ধারণ করে রাজপথে সক্রিয় থেকেছেন। বিগত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদের পক্ষে তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল দৃশ্যমান। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামেও তাকে রাজপথে দেখা গেছে বলেও স্থানীয়রা উল্লেখ করেন।
শিক্ষাজীবনেও তিনি কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। সর্বোচ্চ ডিগ্রিধারী এবং মার্জিত ব্যক্তিত্বের অধিকারী হিসেবে সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
ময়মনসিংহবাসীর প্রত্যাশা, পুরাতন ধারার অবসান ঘটিয়ে নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে উন্নয়ন ও পরিকল্পিত নগর গঠনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন। সংরক্ষিত নারী আসনে তাকে মনোনয়ন দেওয়া হলে অবহেলিত ময়মনসিংহের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এমনটাই বিশ্বাস স্থানীয় সমর্থকদের।
রাজনৈতিক মহলের পর্যবেক্ষণ, আগামী দিনে দলীয় সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে তার প্রার্থিতা। তবে তৃণমূল পর্যায়ে তার পক্ষে সমর্থন ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।




