মুকসুদপুরে সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে সহকর্মীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ, অভিযোগ অস্বীকার অভিযুক্তের

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার ১৪৮ নম্বর কদমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে সহকর্মী নারী শিক্ষককে দীর্ঘদিন ধরে যৌন হয়রানি ও অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়জুড়ে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রাজিবুল ইসলাম (যোগদান: ২১ জুন ২০১৬)-এর বিরুদ্ধে একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হ্যাপি খানম (যোগদান: ২২ জানুয়ারি ২০২৩) লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
লিখিত অভিযোগে হ্যাপি খানম উল্লেখ করেন, গত প্রায় দুই বছর ধরে রাজিবুল ইসলাম বিভিন্ন সময় তাকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের ওয়াশরুমে গেলেও রাজিবুল ইসলাম দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকতেন এবং বিভিন্ন সময় অশোভন আচরণ ও কুপ্রস্তাব দিতেন। এ কারণে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে তিনি অনেক সময় শিশু শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে ওয়াশরুমে যেতে বাধ্য হতেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বিষয়টি বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকার নজরে আসে। প্রধান শিক্ষক দেলোয়ারা বেগম, সহকারী শিক্ষক তাসলিমা এবং সহকারী শিক্ষক শরিফা সুলতানা যুথী বিষয়টি জানতে পেরে রাজিবুল ইসলামকে সতর্ক করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় তিনি প্রধান শিক্ষকের প্রতিও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং হাত তুলতে উদ্যত হন।
এ বিষয়ে সাংবাদিকের অনুসন্ধানে অভিযোগের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। হ্যাপি খানম সাংবাদিকের কাছেও লিখিত অভিযোগের একটি অনুলিপি প্রদান করেছেন। একই সঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক রাজিবুল ইসলাম। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি এ ধরনের কোনো কাজ করিনি। তবে বিভিন্ন সময় তার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা বলার চেষ্টা করেছি এবং হাসি-ঠাট্টা করেছি, এর বেশি কিছু নয়।”
তিনি আরও দাবি করেন, “বিদ্যালয়ে চারজন মহিলা শিক্ষক এবং আমি একজন পুরুষ শিক্ষক। আমাকে এই বিদ্যালয় থেকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।”
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন