যে বয়সে মায়ের কোলেই থাকার কথা, খেলাধুলায় মেতে ওঠার কথা—সে বয়সেই অসহনীয় যন্ত্রণায় কাঁদছে ছোট্ট তাসফিয়া। মাত্র তিন মাস বয়সে তার চোখে ধরা পড়ে ভয়াবহ রোগ রেটিনোব্লাস্টোমা। সময়মতো চিকিৎসা হলে চোখটি বাঁচানো সম্ভব ছিল, কিন্তু চিকিৎসা ব্যাহত হওয়ায় রোগটি এখন রূপ নিয়েছে ক্যান্সারে। চোখটি তুলে ফেলা হয়েছে।
একদিকে চোখের তীব্র যন্ত্রণা, অন্যদিকে সারারাত ধরে কান্না—সব মিলিয়ে শিশুটি যেন ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে মৃত্যুর দিকেই। প্রতিদিন তাসফিয়ার কান্না শুনে ভেঙে পড়ছেন বাবা-মা। অথচ চিকিৎসা চালিয়ে নেওয়ার মতো সামর্থ্য নেই দরিদ্র বাবা মুরাদ হোসেনের।
শিশুটির বাবা মুরাদ হোসেন হলেন, ছোট থাকতে আমার মেয়েকে কষ্ট করে চিকিৎসা করাই ওই সময় কিছুদিনের জন্য ভালো হয়েছিলো, চোখ তুলে ফেলেছি। হঠাৎ আবারো তার চোখে সমস্যা হতে শুরু করেছে। বর্তমানে আমার মেয়েকে ঢাকা পিজি হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে, তবে অর্থের অভাবে ভালোভাবে চিকিৎসা করাতে পারছি না।
শিশুটির মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, আমার মেয়েটা সারাক্ষণ কাঁদে। আমরা কিছুই করতে পারছি না। টাকার অভাবে চিকিৎসা বন্ধ হয়ে গেছে। আল্লাহ ছাড়া আর কারও কাছে যাওয়ার জায়গা নেই।”
এলাকাবাসীরাও শিশুটির এমন অবস্থায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা দ্রুত সরকারি ও সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (RMO) মিল্টন কুমার মুঠোফোনে জানান, রেটিনোব্লাস্টোমা শিশুদের চোখের একটি মারাত্মক ক্যান্সার। এটা শিশুদের হয়ে থাকে। ৫ বছর বয়সের ছোট শিশুদের বিশেষ করে হয়ে থাকে। সময়মতো চিকিৎসা শুরু করা গেলে রোগটি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। দেরি হলে চোখ হারানোর সম্ভাবনা থাকে।




