বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড রোডপাড়াস্থ সাংবাদিক কাইছার হামিদ এর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।শনিবার(৬জুন) রাত ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ডাকাতির ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।
সাংবাদিক কায়সার হামিদের বাবা জানায়, ভোর ৪ টার দিকে প্রায় ৮/১০ জনের একটি ডাকাত দল বাড়িতে হানা দেয়। তখন ৩ জন ডাকাত ছাদ বেয়ে উপরে উঠে বাড়িতে প্রবেশ করে। পরে আমাকে এবং আমার স্ত্রীকে অস্ত্রের মুখে আলমারি ভেঙ্গে নগদ ১ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকা, লক্ষাধিক টাকার স্বর্ণালংকার ও একটি এন্ড্রয়েড মোবাইল নিয়ে যায়। তখন বাকী ডাকাতেরা ঘরের বাহিরের অবস্থান করে পার্শ্ববর্তী ঘরগুলোর গতিবিধি লক্ষ্য করছিল যাতে অন্যকোন মানুষ বের হতে না পারে।
সাংবাদিক কায়সার হামিদ জানায়, কর্মের সুবাদে তখন আমি সস্ত্রীক লোহাগাড়ার বাসায় অবস্থান করছিলাম। বাড়িতে বৃদ্ধ বাবা মা ছিলেন। তাদের কাছে গরু বিক্রি করা ক্যাশ টাকা ও স্বর্ণালংকার ছিল। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, রাত সাড়ে ৩টা থেকে ৪টা ১৩ মিনিট পর্যন্ত আমি আজিজনগর পুলিশ ক্যাম্পের আইসিকে ১৫ বার কল দিয়েছি। তিনি কল রিসিভ করেননি। পরে রাত ৪টা ১৫ মিনিটে জাতীয় সেবা সংস্থা ৯৯৯ কল দিলে তারা লামা থানার মাধ্যমে আজিজনগর আইসি’র সাথে কথা বলিয়ে দেয়। আজিজনগর পুলিশ সকাল সাড়ে ৭টায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। আজিজনগর ক্যাম্প থেকে আমার বাড়ি ১ কিলোমিটার দূরত্বও হবেনা। এমন পুলিশি সেবায় আমরা হতবাক !
সাংবাদিক কাইছার হামিদ লোহাগাড়া উপজেলার দৈনিক সমকাল পত্রিকার প্রতিনিধি ও লোহাগাড়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে অত্যন্ত ব্যস্ত ও জনবহুল এলাকায় দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনা চলাকালীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সাংবাদিক নাজিম উদ্দিন রানা তার ফেইসবুক পোস্টে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে জানান, ঘটনা চলাকালীন আজিজনগর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (আইসি)কে অন্তত ১০ বার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি, বরং বারবার কল কেটে দিয়েছেন. মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দিতে পুলিশের এমন উদাসীনতা ও ব্যর্থতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র সমালোচনা চলছে।
মহাসড়কের পাশে সাংবাদিকের বাড়িতে এমন দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় লোহাগাড়া ও বান্দরবানের সাংবাদিক সমাজ এবং স্থানীয় সচেতন মহল তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা অবিলম্বে এই ডাকাতির সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তার, লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার এবং দায়িত্বে অবহেলাকারী পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
আজিজনগর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (আইসি)আমিনুর রাহিম জানান,আমরাওতো মানুষ ভোররাতে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম, পরে জানতে পেরে ৩০-৪০ মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করি।
লামা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ শাহজাহান কামাল বলেন,বিষয় শুনার সাথে সাথে তাদেরকে ঐ বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।অসযোগিতার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ওসি বলেন, ফাঁড়ির ইনচার্জকে ইতোমধ্যে বিষয়টা নিয়ে বকাঝকা করা হয়েছে।তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




