লামার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন যেন আরেক সলিমপুর:যেখানে পুলিশ যেতে ভয় পায়

বান্দরবানের লামা উপজেলার ৩ নং ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের কুমারী এলাকাটি যেন এক অবিকল ‘সলিমপুর’যেখানে আইনের শাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অপরাধের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, কুমারী পুলিশ ফাঁড়ির ঠিক পেছনের ফেতাইন্যাছড়া এলাকায় স্থানীয় একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের কারণে প্রশাসন কার্যত অসহায় বা নির্বিকার ভূমিকা পালন করছে। এই এলাকায় অবাধে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন ও পাচারের মহোৎসব, যার ফলে চরম ঝুঁকিতে পড়েছে সাধারণ মানুষের বসতভিটা ও চাষের জমি।
​স্থানীয়দের অভিযোগ, কুমারী পুলিশ ফাঁড়ির একদম নাকের ডগায় এই অবৈধ কর্মকাণ্ড চললেও কোনো এক অদৃশ্য ইশারায় পুলিশ সেখানে অভিযানে যেতে ‘ভয় পায়’ কিংবা রহস্যজনক কারণে এড়িয়ে যায়। দুর্গম এবং অপরাধপ্রবণ চট্টগ্রামের ‘সলিমপুর’ অঞ্চলের মতোই কুমারী এলাকার এই ফেতাইন্যাছড়া অংশটি এখন অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।সরেজমিনে দেখা যায়,স্থানীয় প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের সদস্যরা ফেতাইন্যাছড়া খাল ও এর আশপাশের কৃষিজমি থেকে শক্তিশালী ড্রেজার ও স্যালো মেশিন বসিয়ে দিন-রাত সমানতালে বালু উত্তোলন করছে। প্রতিদিন শত শত ট্রাক ও ডাম্পার বোঝাই করে এই বালু পাচার করা হচ্ছে বিভিন্ন স্থানে। অতিরিক্ত বালু উত্তোলনের ফলে নদীর পাড় ও কৃষিজমিতে বড় বড় ধস নেমেছে। এলাকার বেশ কয়েকটি ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি যেকোনো মুহূর্তে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।একটি পুকুর খননের অনুমতি নিয়ে এসব কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন বলে জানা যায়।
ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের সাবেক যুবদল সভাপতি গিয়াস উদ্দিন, স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি সরওয়ার আলম, শ্রমিক দল সভাপতি নাজিম উদ্দীন, কুমারী এলাকার বিএনপি নেতা আবুল হোসেন এবং কুমারী তৃণমূল যুবদল নেতা নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে এই অবৈধ বালুর ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে। দলীয় প্রভাব খাটিয়ে এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ছড়া ও ফসলি জমির বুক চিরে বালু লুটে নিচ্ছে।
​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,ফাঁড়ির পুলিশ সব দেখেও না দেখার ভান করে থাকে। সিন্ডিকেটের ক্ষমতার দাপটে সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে সাহস পায় না। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে নানাভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়। পুলিশ যেখানে অপরাধ দমনে কাজ করার কথা, সেখানে ফাঁড়ির পেছনে এই অবৈধ বালুর মেলা চললেও তারা কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। কুমারী এলাকা এখন অপরাধীদের জন্য আরেক সলিমপুর হয়ে উঠেছে।
সাংবাদিকরা সরেজমিনে গিয়ে কুমারী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ(আইসি)জামিল আহমেদ কে ফোন দিলে আসছি যাচ্ছি বলে বিভিন্ন অজুহাতে কালক্ষেপণ করে।পরবর্তীতে তিনি পুকুর খননের অনুমতি রয়েছে বলে সাংবাদিকদের এড়িয়ে যান।
বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তরের ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ নুর উদ্দিন জানান,আমরা কুমারী এলাকার ভয়ঙ্কর এই ফেতাইন্যাছড়া পরিদর্শন করেছি,তাদের বিরুদ্ধে পরিবেশ আইনে মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

আসন্ন ২০২৬-২৭ বাজেটে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বাজেট বৃদ্দির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত

চট্টগ্রাম, ৪ জুন ২০২৬: বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চলমান অস্থিরতা, জীবাশ্ম জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুৎ