চকরিয়ার বৃহত্তম বদরখালী বাজার বর্তমানে কাগজে-কলমে সরকারি খাস কালেকশনের আওতায় থাকলেও বাস্তবে এখানে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে চলছে সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য—এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের কাছ থেকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি হিসাবে প্রায় ২৭ লাখ টাকার কন্ট্রাক্টে বাজারটি প্রথমে ইজারা দেওয়া হলেও সেটি প্রকৃত দরদাতার কাছে পৌঁছাতে গুনতে হয়েছে প্রায় ৪০ লাখ টাকা। পরে হাতবদল হতে হতে মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই বাজারটির মূল্য বেড়ে দাঁড়ায় ৬৩ লাখ টাকায়।
অভিযোগ অনুযায়ী— প্রথম কন্ট্রাক্ট মূল্য: ২৭ লাখ টাকা। প্রকৃত ইজারাদারের কাছে পৌঁছাতে দিতে হয়েছে: ৪০ লাখ, পরে বিক্রি হয়েছে: ৪৬ লাখে, পুনরায় হাতবদল: ৫৬ লাখে, সর্বশেষ মূল্য দাঁড়িয়েছে: ৬৩ লাখ টাকা। এভাবে ধাপে ধাপে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজারটি একাধিকবার বিক্রি হওয়ায় সরকার বিপুল রাজস্ব হারিয়েছে বলে অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, এই অনিয়মের কারণে সরকার প্রায় ৭০ লাখ টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের প্রশ্ন— সরকারি খাস কালেকশন থাকলে এত হাতবদল হলো কীভাবে? অতিরিক্ত অর্থের বোঝা শেষ পর্যন্ত বহন করছে কারা? বাজারের ইজারা নিয়ে সিন্ডিকেট কারা পরিচালনা করছে?
তাদের অভিযোগ, বাড়তি টাকার চাপ শেষ পর্যন্ত পড়ছে ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতাদের ওপর—বাড়ছে দোকান ভাড়া, টোল ও নিত্যপণ্যের দাম।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে খাস সম্পত্তি ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের অনিয়ম অব্যাহত থাকবে।
তাদের ভাষায়—“সরকারি সম্পত্তি থেকে লাভবান হওয়ার কথা জনগণের, কিন্তু এখানে লাভ হচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগী ও সিন্ডিকেটের।”




