কুমিল্লার লাকসাম থানা পুলিশ ঢাকা থেকে লুট হওয়া একটি ট্রাকভর্তি ( নং- ঢাকা- মেট্টো- ১১-৪৬২৪) ৯টি নতুন ‘ইয়ামাহা এফ জেড এস মোটরসাইকেল শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) উদ্ধার করেছেন। এই সময় পুলিশ শাহপরান (৩৬) নামে ট্রাক চালককে গ্রেপ্তার করেছেন। গ্রেপ্তারকৃত ট্রাক চালকের বাড়ি কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার ঝলম (দক্ষিণ) ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামে।
পুলিশ, এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ওইদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে একটি ট্রাক লাকসাম উপজেলার মুদাফরগঞ্জ (দক্ষিণ) ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ফুলহরা গ্রামে প্রবেশ করে। এ সময় ট্রাকটি সড়কের পাশে দাঁড় করিয়ে দুই-তিনজন লোক এদিক-ওদিক পায়চারি করছিল। এতে স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হয় এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে ওই লোকগুলো অসংলগ্ন কথা বার্তা বলেন। ওই সময় স্থানীয় লোকজন ট্রাকের ভিতর কি আছে দেখতে গেলে ট্রাকের সঙ্গে আসা সন্দেহভাজন ৩ জন পালিয়ে যায়। তাঁরা ট্রাকের ভিতর নতুন ৯টি ইয়ামাহা এফ.জেডএস মোটরসাইকেল দেখতে পায়। এ সময় এগুলো চোরাই মোটরসাইকেল সন্দেহে স্থানীয় লোকজন ট্রাক চালককে আটক করেন এবং জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল দিয়ে ঘটনা অবহিত করেন।
সংবাদ পেয়ে লাকসাম থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সিরাজুল ইসলাম ঘটনাস্থলে পৌঁছে মোটরসাইকেল ভর্তি ট্রাকটি জব্দ করে থানায় নিয়ে আসেন এবং ট্রাক চালককে গ্রেপ্তার করেন। গ্রেপ্তারকৃত ট্রাক চালক শাহপরানের বিরুদ্ধে থানায় পূর্বেরও তিনটি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, উদ্ধারকৃত মোটরসাইকেলগুলো রাজধানী ঢাকার কুড়িল বিশ্বরোড এলাকা হতে লুট করে অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছিল। তবে বিষয়টি পুলিশ তদন্তসহ সুক্ষ্মভাবে খতিয়ে দেখছেন।
এদিকে প্রত্যক্ষদর্শী ফুলহরা গ্রামের মো. জাকির হোসেন জানান, মোটরসাইকেল ভর্তি ট্রাকটি এলাকায় প্রবেশ করলে গ্রামবাসীর নজরে আসে। এ সময় গ্রামবাসী এগুলো আটক করে লাকসাম থানা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মোটরসাইকেল ভর্তি ট্রাকটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান।
এই ব্যাপারে লাকসাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাকসুদ আহাম্মদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সংশ্লিষ্ট খিলগাঁও থানা থেকে মোটরসাইকেলগুলো শনাক্ত করার জন্য পুলিশের একটি প্রতিনিধিদল লাকসাম থানায় আসছেন। তারা আসার পর যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ওসি জানান, আটক ট্রাক চালককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত এবং গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।




