খামেনিকে হত্যা মাদুরোকে তুলে নেওয়া—এ এক ভয়াবহ বিশ্ব

ইরানে হামলার ঘটনাকে ‘ভয়াবহ’ মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিষয়ক মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমরা এখন একটা খুব কঠিন সময়ে বাস করছি। যে সময়টা খুবই অস্থির। একদিকে বিশ্ব রাজনীতিতে ভয়াবহ নৈতিকতার অভাব। বিনা কারণে একে দেশের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ; বিনা কারণে দেশের প্রধানকে রাষ্ট্রের প্রধানকে এবং একটি মতবাদের প্রধানকে (ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি) হত্যা করা, একটা স্বাধীন রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে (ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো) তুলে নিয়ে গিয়ে জেলে পুড়ে দেওয়া এক ভয়াবহ বিশ্ব।’

গতকাল সোমবার বিকেলে ধানমন্ডির ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি-আইএসটি মিলনায়তনে প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপাসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা মরহুমা অধ্যাপক শাহিদা রফিকের প্রথম বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন। ২০২৫ সালের ২ মার্চ রাজধানীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান অধ্যাপক শাহিদা রফিক। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ডিন ছিলেন। তিনি আইএসটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা যারা কিছুটা পুরোনো মানুষ; আমরা বেড়ে উঠেছি গণতান্ত্রিক একটা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে, চিন্তার মধ্য দিয়ে। আমাদের ধ্যানধারণা, চিন্তাভাবনার মধ্যে সবসময় গণতান্ত্রিক চিন্তাভাবনাই আছে। আমরা মানবিক মূল্যবোধে বিশ্বাস করি, মানবতায় বিশ্বাস করি, গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি; প্রতিটি রাষ্ট্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি। এরকম মানুষগুলো আমরা এখন অত্যন্ত কষ্টে আছি। চতুর্দিককার অবস্থা দেখে আমরা কেমন যেন হতাশ হয়ে পড়ছি। বাংলাদেশেও ঠিক একইভাবে অস্থিরতার মধ্য দিয়ে আমরা এগিয়ে চলেছি। আল্লাহর কাছে হাজারো শুকরিয়া জানাই যে, আল্লাহ তার অশেষ রহমতে বাংলাদেশের মানুষ এখনো সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে বিচলিত হয় না, দ্বিধা করে না।’

অধ্যাপক শাহিদা রফিকের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি (শাহিদা রফিক) ছিলেন সেই জাতের একজন মানুষ, যিনি সত্যকে সত্য বলতেন, কালোকে কালো বলতেন, ন্যায়কে ন্যায় বলতেন, অন্যায়কে অন্যায় বলতেন। আমার প্রায় মনে পড়ে—একসঙ্গে কাজ করেছি দীর্ঘদিন। তিনি রাজপথে আমার সঙ্গে হেঁটেছেন, স্লোগান দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা হয়েছিল। সব মোকাবিলা করে তিনি কিন্তু সামনের দিকে এগিয়ে গেছেন।’

দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। গত ১৭ থেকে ১৮ বছরে আমাদের সব প্রতিষ্ঠানকে ফ্যাসিস্ট শক্তি ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি ধ্বংস করেছে শিক্ষাব্যবস্থাকে। শিক্ষাব্যবস্থা সত্যিকার অর্থে ভেঙে পড়েছে। এটাকে আবার টেনে ওপরে তোলা, প্রতিষ্ঠানগুলোকে গড়ে তোলা, রাষ্ট্রকে সত্যিকার অর্থে একটি জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র গড়ে তোলা, মানুষের অধিকারগুলোকে প্রতিষ্ঠা করা, ন্যায়ের শাসনকে প্রতিষ্ঠা করা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা, আইনের শাসনকে প্রতিষ্ঠা করা—এ বিষয়গুলো সামনে আবার নিয়ে আসতে হবে। আমাদের সেই লক্ষ্যেই কাজ করতে হবে।’

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন