মাগুরায় রমজানে অনাহারে বৃদ্ধা জরিনা বেগম, সহায়তার আকুল আবেদন

মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নর খালিয়া মন্ডলপাড়ায় একা পড়ে থাকা জরিনা বেগম (৭০)-এর জীবনে যেন দুঃখই একমাত্র সঙ্গী। বহু বছর আগে স্বামী হারিয়েছেন। নেই কোনো জমিজমা, নেই আয়ের পথ। সরকারি সহায়তার তালিকায়ও তার নাম কখনো ওঠেনি।
বয়সের ভারে এখন আর ভিক্ষার জন্য বাড়ির বাইরে যাওয়ার শক্তিটুকুও নেই তার। পবিত্র রমজান মাস—যে মাসে ঘরে ঘরে ইফতারের আয়োজন—সেই মাসেই অনেক দিন অনাহারে কাটছে এই বৃদ্ধার। ইফতার কিংবা সেহরিতে অনেক সময় তার ভাগ্যে জোটে না একমুঠো খাবারও। বাধ্য হয়ে শুধু পানি খেয়েই রোজা ভাঙতে হয় তাকে।
প্রতিবেশী সুমি বলেন,
“চুলার দিকে তাকালেই বোঝা যায় কত দিন ধরে এখানে আগুন জ্বলেনি। হাঁড়ি-পাতিল পড়ে আছে, কিন্তু রান্না হয় না। ঘরে চাল-ডাল কিছুই নেই।”
স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন ইফতারের সময় জরিনা বেগম ঘরের দরজার সামনে বসে থাকেন। নিঃশব্দে তাকিয়ে থাকেন রাস্তার দিকে—কখন যেন কেউ একটু খাবার নিয়ে আসে। সেই খাবার দিয়েই তার ইফতার, সেই খাবার দিয়েই সেহরির ভরসা।
স্থানীয় বাসিন্দা সাগর মন্ডল বলেন,
“এই বয়সে তার এমন কষ্ট কেউ সহ্য করতে পারে না। তিনি একেবারে অসহায় অবস্থায় আছেন।”
আরেক প্রতিবেশী মমিনুর মোল্লা বলেন,
“রমজান মাসে একজন বৃদ্ধা মানুষ না খেয়ে থাকছেন—এটা আমাদের সবার জন্য লজ্জার। এখনই যদি কেউ এগিয়ে না আসে, তাহলে তার বেঁচে থাকাই কঠিন হয়ে যাবে।”
এলাকাবাসীর আকুল আবেদন, জরিনা বেগমকে দ্রুত বয়স্ক ভাতা ও জরুরি খাদ্য সহায়তার আওতায় আনা হোক। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের কাছে তারা সাহায্যের হাত বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের প্রতি অনুরোধ—বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যেন অন্তত রমজানের এই পবিত্র মাসে একজন অসহায় বৃদ্ধাকে অনাহারে দিন কাটাতে না হয়।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় সমীক্ষাতেই আটকে পুরাতন ব্রহ্মপুত্রে সেতু নির্মাণ, ভরসা এখনো বাঁশের সাঁকো

নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রাম এবং গাজীপুরের কাপাসিয়া