হাজির ঘাটে নৌকা পারাপারে একমাত্র ভরসা জরাজীর্ণ একটি নৌকা

 দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট পৌরসভা ও গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল হাজির ঘাট এখন হাজারো মানুষের জন্য আতঙ্কের নাম। করতোয়া নদীর এই ঘাটের উপর একটি সেতুর অভাবে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় পারাপার করছেন সাধারণ মানুষ। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে, তারপরও দীর্ঘদিনেও নির্মাণ হয়নি একটি স্থায়ী ব্রিজ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই হাজির ঘাট দিয়েই দুই উপজেলার প্রায় ৩০ হাজার মানুষ প্রতিদিন চলাচল করেন। শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, রোগী, চাকুরিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নৌকাই একমাত্র ভরসা। কিন্তু সামান্য ঝড়-বৃষ্টি কিংবা নদীর স্রোত বাড়লেই ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রায়ই নৌকা ডুবোচর, অতিরিক্ত যাত্রী ও ঝুঁকিপূর্ণ চলাচলের কারণে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে যাত্রীরা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সরকার যায় আবার নতুন সরকার আসে তারা শুধু প্রতিশ্রুতি দেয় কিন্তু কাজ হয় না। বহুবার জনপ্রতিনিধিদের কাছে সেতুর দাবি জানানো হলেও বাস্তবে কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে প্রতিদিনই দুর্ভোগ, আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা নিয়েই পারাপার করতে হচ্ছে মানুষকে।
ব্যবসায়ীরা জানান, হাজির ঘাটে একটি সেতু নির্মাণ হলে বদলে যাবে পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক চিত্র। কৃষিপণ্য দ্রুত বাজারজাত করা যাবে, বাড়বে ব্যবসা-বাণিজ্য, সৃষ্টি হবে নতুন কর্মসংস্থান। বর্তমানে নৌকা নির্ভর যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বর্ষা মৌসুমে ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় পারাপার করতে হয়। অনেক সময় দুর্ঘটনার ভয়ে অভিভাবকরা সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে চান না। অসুস্থ রোগীদের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি ভয়াবহ। জরুরি মুহূর্তে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। এলাকাবাসী বলছেন, “হাজির ঘাটে একটি ব্রিজ শুধু যোগাযোগ সহজ করবে না, এটি দুই উপজেলার মানুষের জীবনযাত্রা, শিক্ষা, চিকিৎসা ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে আমূল পরিবর্তন আনবে।” দ্রুত সময়ের মধ্যে হাজির ঘাটে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও জনপ্রতিনিধিদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে জানতে বর্তমান ঘোড়াঘাট পৌরসভার প্রশাসক ও ভারপ্রাপ্ত ইউএনও এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান বিষয়টি সম্পর্কে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছেন এবং দ্রুত সময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় সমীক্ষাতেই আটকে পুরাতন ব্রহ্মপুত্রে সেতু নির্মাণ, ভরসা এখনো বাঁশের সাঁকো

নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রাম এবং গাজীপুরের কাপাসিয়া