শিক্ষানগরী হিসেবে পরিচিত রাজশাহী শিশুশ্রমের ভয়াবহ বাস্তবতায় নতুন করে আলোচনায়। যে বয়সে শিশুদের স্কুলে থাকার কথা, সেই বয়সে তাদের অনেকেই জীবিকার তাগিদে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত হচ্ছে। গবেষণার জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও ইউনিসেফের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে রাজশাহী বিভাগে শিশুশ্রমের হার ১২ দশমিক ৪ শতাংশ, যা দেশের সব বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ।
জাতীয় গড় ৯ দশমিক ২ শতাংশের তুলনায় এই হার অনেক বেশি। মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে (এমআইসিএস)-২০২৫ অনুযায়ী, রাজশাহী বিভাগের প্রতি আটজন শিশুর মধ্যে একজন কোনো না কোনো ধরনের শ্রমে নিয়োজিত।
জাতীয় শিশুশ্রম জরিপ-২০২২ অনুযায়ী, দেশে ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুশ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ১৭ লাখ ৮০ হাজার।
এর মধ্যে রাজশাহী বিভাগেই রয়েছে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার শিশুশ্রমিক। উদ্বেগের বিষয় হলো, এসব শিশুর বড় অংশ ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত।
ওয়েল্ডিং, অটোমোবাইল ওয়ার্কশপ, গ্যাস বার্নার, কৃষিশ্রম, টেইলারিং, ইটভাটা, ক্ষুদ্র শিল্প ও অনানুষ্ঠানিক উৎপাদন খাতে শিশুদের উপস্থিতি স্পষ্ট।
গবেষকরা বলছেন, উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক বৈষম্য, মৌসুমি দারিদ্র্য, শিক্ষাঝরে পড়া এবং পারিবারিক আয় সংকট এই পরিস্থিতির প্রধান কারণ।
রাজশাহীতে শিশুশ্রম বৃদ্ধির পেছনে কয়েকটি কারণ সবচেয়ে বেশি। পরিবারের আয় কমে গেলে শিশুদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায় এবং তারা শ্রমবাজারে প্রবেশ করে।
বিবিএস ও ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, দেশে শিশুশ্রমের হার ২০১৯ সালের ৬ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ৯ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছেছে। অর্থাৎ ছয় বছরে প্রায় ১২ লাখ নতুন শিশু শ্রমে যুক্ত হয়েছে। এই বৃদ্ধির বড় অংশ দেখা গেছে উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে।
রাজশাহী বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের পরিচালক আলমগীর কুমকুম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, শিশুশ্রম সংক্রান্ত বিষয় সরাসরি তারা পরিচালনা করেন না। এগুলো কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর দেখে থাকে।
রাজশাহী কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপ-মহাপরিদর্শক জাহাঙ্গীর আলম সংবাদমাধ্যমকে জানান, শিশুশ্রম নিরোধে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের সহায়তায় কিছু কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
বর্তমানে প্রায় ১০০ শিশুকে নিয়ে কাজ করা হচ্ছে এবং তাদের পরিবারের জন্য সহায়তার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।




