মিঠামইনে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার ভিড়ে ক্ষুব্ধ বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ইব্রাহিম মিয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগে ভাইরাল

স্বাধীনতা সংগ্রামের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কিশোরগঞ্জের  মিঠামইন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ইব্রাহিম মিয়া। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি দেশের প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা এবং বর্তমান সময়ে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ বৃদ্ধির নেপথ্য কারণ তুলে ধরেন। তার সাক্ষাৎকারের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগে  ভাইরাল হওয়ার  পর  সর্বমহলে এই নিয়ে  ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

​বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ইব্রাহিম মিয়া তার বক্তব্যে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তী সময়ের কিছু বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন।
​তিনি জানান, ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তারা অত্যন্ত আনন্দিত ও আশাবাদী ছিলেন। কোনো স্বার্থ ছাড়াই তারা অস্ত্র জমা দিয়েছিলেন। তখন কে মুক্তিযোদ্ধা আর কে অ-মুক্তিযোদ্ধা—তা নিয়ে কোনো বিভেদ বা মাথা ব্যথা ছিল না, সবাই এক হয়ে দেশের জন্য কাজ করেছিলেন।
​ তার মতে, পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর। বিশেষ করে ১৯৯৭ সাল থেকে যখন মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে ভাতা এবং বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা (স্বার্থ) চালু করা হয়, তখনই দেশে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ তৈরির প্রবণতা শুরু হয়।
​ তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যাদেরকে কোনোদিন মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে দেখা যায়নি, এমনকি যারা নিজেরাও কখনো দাবি করেননি যে তারা যুদ্ধ করেছেন—ভাতা এবং সন্তানদের চাকরির মতো সুযোগ-সুবিধা চালু হওয়ার পর তারাও রাতারাতি মুক্তিযোদ্ধা সেজে গেছেন।
​”যখনই ভাতা এবং স্বার্থ জড়িত হলো, তখনই ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার প্রচলন শুরু হলো।
​মোঃ ইব্রাহিম মিয়ার এই বক্তব্য মূলত দেশের প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ ও বেদনারই বহিঃপ্রকাশ। দেশমাতৃকার টানে যারা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছিলেন, তাদের বড় অংশই কোনো বৈষয়িক লাভের আশা করেননি। কিন্তু পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধাকে কেন্দ্র করে যেভাবে ভুয়া সনদের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তা প্রকৃত বীরদের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করছে বলে তিনি মনে করেন। সম্প্রতি স্থানীয় সাংবাদিক মোক্তার হোসেন গোলাপের কাছে দেওয়া সাক্ষাৎকার (ভিডিও) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে  ভাইরাল হওয়ার পর সর্বমহলে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।
​এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক তালিকা নিশ্চিত করা এবং ভুয়া স্বত্বাধিকারীদের চিহ্নিত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে সচেতন মহল মনে করছেন।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

সুরুপী সালিনাবকসা উচ্চ বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির সভাপতি নির্বাচিত বদিউজ্জামান লস্কর

গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার সুরুপী সালিনাবকসা উচ্চ বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে জনাব