পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধে চাচা হত্যা: প্রধান আসামি ইউপি সদস্য জলিলকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধের জেরে কফিল উদ্দিন (৬৫) নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলার প্রধান আসামি মো. আব্দুল জলিল (৪৮)-কে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। গত ২৮ জুন (রবিবার) রাতে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানার পূর্ব মৌচাক কাঁচাবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আব্দুল জলিল গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার উত্তর হরিপুর মধ্যপাড়া গ্রামের মো. ছামছুল হকের ছেলে। তিনি হরিরামপুর ইউনিয়নের বর্তমান ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য। নিহত কফিল উদ্দিন সম্পর্কে তিনি চাচা।
মামলার এজাহার ও তদন্ত সূত্রে জানা যায়, কফিল উদ্দিনের পৈতৃক ৬৬ শতক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শরিকদের সঙ্গে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি। পরে কফিল উদ্দিন জমিটি স্থানীয় কৃষক আতাউর রহমানকে বর্গা চাষের জন্য দেন।
গত ২৮ এপ্রিল সকালে আতাউর রহমান জমিতে ধান কাটতে গেলে অভিযুক্তরা তাকে বাধা দেন। বাধার কারণ জানতে চাইলে তাকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে কফিল উদ্দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে আতাউর রহমানকে উদ্ধার করতে গেলে প্রধান আসামি আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে অভিযুক্তরা তাকে বেধড়ক মারধর করে। কফিল উদ্দিনের স্ত্রী জুলেখা বেগম স্বামীকে রক্ষা করতে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। এ সময় তাদের স্বজনদের ওপরও হামলার অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করলেও ঘটনাস্থলেই কফিল উদ্দিনের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী জুলেখা বেগম বাদী হয়ে গত ১ মে ২০২৬ তারিখে গোবিন্দগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নং-০১) দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকেই আসামিরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায়।
মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে র‌্যাব-১৩ গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-১৩-এর সিপিসি-৩, গাইবান্ধা ক্যাম্প এবং র‌্যাব-১-এর সিপিএসসি, গাজীপুর ক্যাম্পের একটি যৌথ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গাজীপুরের কালিয়াকৈরের পূর্ব মৌচাক কাঁচাবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি মো. আব্দুল জলিলকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
র‌্যাব জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতার এবং হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধ দমনে র‌্যাবের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন