জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধানসহ ২৭ ডাকাতের আত্মসমর্পণ, উদ্ধার বিপুল অস্ত্র-গোলাবারুদ

সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর শেখসহ ২৭ জন সক্রিয় সদস্য বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। এ সময় তারা ২২টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৩৪০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও ৫৫ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ জমা দেন। কোস্ট গার্ডের দাবি, ধারাবাহিক বিশেষ অভিযানের মুখে কোণঠাসা হয়ে পড়ায় তারা আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেন।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই ২০২৬) দুপুরে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, গত সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার সুন্দরবনের চরপুটিয়া খাল সংলগ্ন এলাকায় ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর শেখসহ ২৭ জন সদস্য আনুষ্ঠানিকভাবে কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।
আত্মসমর্পণের সময় তাদের কাছ থেকে ৩টি বিদেশি বন্দুক, ১টি এইট শুটার, ১টি ফোর শুটার, ৫টি দেশীয় একনলা বন্দুক, ১৫টি দেশীয় পাইপগান, ২টি চায়না পাইপগান, ৩৪০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং ৫৫ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।
কোস্ট গার্ড জানায়, সুন্দরবনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ পরিচালনা করে ইতোমধ্যে ৪৫ জন বনদস্যুকে আটক এবং দস্যুদের কবল থেকে ৪২ জন জেলে ও বাওয়ালিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
এর আগে ছোট সুমন বাহিনীর ৭ সদস্য এবং বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ৩ সদস্যও অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করেন। সর্বশেষ ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধানসহ ২৭ জনের আত্মসমর্পণকে সুন্দরবনে দস্যু দমনে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখছে কোস্ট গার্ড।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, আত্মসমর্পণকারী ডাকাতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যক্রম সম্পন্নের পাশাপাশি সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সুন্দরবনে সক্রিয় অন্যান্য বনদস্যুদেরও অস্ত্র সমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, যারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাবে, তাদের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করতে নিয়মিত অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

​লামায় পৈত্রিক সম্পত্তি জবরদখল ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে, দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন ভুক্তভোগী নারী

বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী মৌজায় পৈত্রিক ও নিজস্ব খরিদা সম্পত্তি