নীতিমালা প্রকাশে বিলম্ব, সংকটে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য এমপিও নীতিমালা প্রকাশ না হওয়ায় গভীর সংকটে পড়েছে এ খাতের হাজারো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শিক্ষা মন্ত্রণালয় গত ৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে বেসরকারি স্কুল ও কলেজ এমপিও নীতিমালা–২০২৫ প্রকাশ করলেও, একই সঙ্গে ঘোষিত মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিও নীতিমালা–২০২৬ আজও প্রকাশ পায়নি। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা চলতি অর্থবছরে এমপিওভুক্তির সুযোগ থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত হয়েছেন।
নীতিমালা অনুযায়ী, গত ১৪ জানুয়ারি থেকে ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত অনলাইনে বেসরকারি স্কুল ও কলেজের এমপিও আবেদন গ্রহণ করা হয়। গতকাল ছিল সেই আবেদনের শেষ দিন। অথচ নীতিমালা প্রকাশ না হওয়ায় মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আবেদন করার কোনো সুযোগই পায়নি—যা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
নির্বাচন-পূর্ব শঙ্কা, সময় ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনের আগে যদি মাদ্রাসা ও কারিগরি এমপিও নীতিমালা প্রকাশ না হয়, তবে নির্বাচনকালীন প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতার কারণে নতুন করে এমপিও আবেদন গ্রহণ কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়বে। সে ক্ষেত্রে চলতি অর্থবছরেই এসব প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির সুযোগ হারাতে পারে—যার সরাসরি প্রভাব পড়বে হাজারো শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর জীবনে।
নীতিমালা প্রকাশে বিলম্বের প্রভাব পড়ছে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও। এনটিআরসিএ শিগগিরই প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। কিন্তু এমপিও নীতিমালা না থাকায় বহু যোগ্য ও মেধাবী শিক্ষক মাদ্রাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্ব পর্যায়ের পদে নিয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন—যা শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি সুস্পষ্ট বৈষম্য তৈরি করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাছাড়া, সরকারের এমপিওভুক্ত মাদ্রাসায় কর্মরত শিক্ষকদের ৮ম গ্রেড সমস্যাও রয়েছে।
সূত্র জানায়, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিও নীতিমালা–২০২৬ বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ছাড়পত্র পেলেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় নীতিমালাটি প্রকাশ করতে পারবে। তবে কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে নীতিমালাটি সেখানে আটকে আছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শিক্ষক ও শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ৫ আগস্টের জুলাই বিপ্লবের পর বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষার ক্ষেত্রে এ ধরনের অবহেলা সেই প্রত্যাশার সম্পূর্ণ বিপরীত। তারা বলছেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার একটি বড় অংশকে এভাবে উপেক্ষা করা অযৌক্তিক, অমানবিক এবং রাষ্ট্রীয় বৈষম্যেরই প্রতিফলন।
এমতাবস্থায় সংশ্লিষ্ট মহলের জোর দাবি—অবিলম্বে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিও নীতিমালা–২০২৬ প্রকাশ করতে হবে। পাশাপাশি জাতীয় নির্বাচনের আগেই এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা সময়সূচি নির্ধারণ করে এমপিও আবেদন গ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। অন্যথায়, শিক্ষা খাতের এই গুরুত্বপূর্ণ অংশটি দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক ও প্রশাসনিক সংকটে নিমজ্জিত হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন