তরুণ প্রজন্মকে বাংলাদেশের চালিকাশক্তি হিসেবে অভিহিত করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বর্তমান প্রজন্মকে কেবল স্বপ্ন দেখানো নয়, বরং তাদের হাতেই দেশের দায়িত্ব তুলে দিতে চায় তাঁর দল। মঙ্গলবার দুপুরে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত ১১ দলীয় জোটের এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা তরুণদের বেকার ভাতা দিয়ে নির্ভরশীল করতে চাই না; বরং শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের দক্ষ কারিগরে পরিণত করে মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করব।” তরুণদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, “আমরা বাংলাদেশ নামক উড়োজাহাজের ককপিটে তোমাদের বসাতে চাই, যেন তোমরা গর্ব করে বলতে পারো—আমিই বাংলাদেশ।”
নির্বাচনী প্রচারে উন্নয়ন অর্থের উৎস নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আমির বলেন, “বিগত সময়ে দেশ থেকে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করা হয়েছে, ক্ষমতায় গেলে তা উদ্ধার করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত আনা হবে। সেই টাকা দিয়েই জনগণের উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে।” তিনি কিশোরগঞ্জকে কৃষিনির্ভর জেলা হিসেবে উল্লেখ করে কৃষিকে শিল্পে রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি দেন।
হাওরাঞ্চলের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “দেশের প্রোটিনের বড় উৎস এই হাওর। কিন্তু উন্নয়নের ভুল মডেলে নদীগুলোকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা নদীর জীবন ফিরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে উন্নয়নের নতুন সংস্কার শুরু করব।” এছাড়া অক্ষমদের দায়িত্ব সরকার নেবে এবং ঘরে-বাইরে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
রাজনৈতিক বিভেদ নিয়ে ডা. শফিকুর রহমান কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন: “বাংলাদেশকে সব ধর্মের মানুষ নিয়ে একটি ফুলের বাগানের মতো সাজানো হবে। ধর্ম দিয়ে জাতিকে টুকরো করার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না।” “যারা অতীত নিয়ে কামড়াকামড়ি করতে চায়, তারা করুক; আমরা আলোকিত পথে এগিয়ে যাব।” “আমার ভোট আমি দেব, তোমার ভোটও আমি দেব—সেই সংস্কৃতি চব্বিশের যোদ্ধারা আর ফিরতে দেবে না। আমরা সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বিজয়ী যে কাউকেই অভিনন্দন জানাতে প্রস্তুত।”
জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মো. রমজান আলীর সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন আসনের প্রার্থীরা। বিশেষ করে সদ্য জামায়াতে যোগদানকারী বিএনপির সাবেক এমপি মেজর (অব.) আক্তারুজ্জামান রঞ্জনের উপস্থিতি সভায় বাড়তি আলোচনার সৃষ্টি করে।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক রমজান আলী স্থানীয় উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, তারা বিজয়ী হলে হাওর উন্নয়ন বোর্ড পুনর্গঠন, আধুনিক হিমাগার নির্মাণ এবং ভৈরব-ময়মনসিংহ সড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করার কাজ করবেন।




