জয়পুরহাটের কালাই ক্ষেতলাল ও আক্কেলপুরের প্রাণ আলু আর ধান কোন দাম নেই

জয়পুরহাটের কালাই ক্ষেতলাল ও আক্কেলপুরের প্রাণ আলু আর ধান। নির্বাচনের মৌসুম এলেই গ্রামবাংলার মাঠে যেমন ফসলের ব্যস্ততা বাড়ে, তেমনি বাড়ে ভোট ও রাজনীতির আলোচনা। জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার মাঠে এখন – আগাম জাতের আলু তোলার ধুম। ভোর থেকেই নারী-পুরুষ শ্রমিক নিয়ে কৃষকেরা জমি থেকে আলু তুলে ক্ষেতেই বিক্রি করছেন। এই কর্মব্যস্ততার মাঝেই কৃষকের মুখে মুখে ঘুরছে ভোট, সরকার আর নিজেদের না পাওয়ার কষ্টের কথা। রবিবার সকালে জয়পুরহাট-২ আসনের কালাই উপজেলার মূলগ্রাম মাঠে দেখা যায় এমনই চিত্র। মাঠজুড়ে আলু তোলার ব্যস্ততার ফাঁকে কৃষকদের সঙ্গে কথা বললেই উঠে আসে ভোটের প্রসঙ্গ। তাঁদের চাওয়া খুব বেশি কিছু নয় যে দলই ক্ষমতায় আসুক, তারা যেন কৃষকের কথা ভাবে, ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করে এবং এলাকায় সরকারি হিমাগার নির্মাণ করে। পাচবিবি উপজেলার ধরাইল গ্রামের কৃষক রফিকুল  প্রায় ৭০ শতাংশ জমিতে আগাম আলু চাষ করেছেন। কয়েক সপ্তাহ আগেও প্রতি মণ আলু ৮০০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে সেই দাম নেমে এসেছে মাত্র ৩০০ – টাকায়। এতে তিনি হতাশ। তিনি বলেন, ভোট আসে-যায়, সরকার বদলায়, কিন্তু কৃষকের ভাগ্য বদলায় না। তবুও তিনি চান ভোট যেন শান্তিপূর্ণ হয় এবং সার ও কীটনাশকের দাম কমে, ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হয় ও সরকারি হিমাগার গড়ে ওঠে উপজেলার কালাইএর থুপসারা গ্রামের তাইফুল ১০০ শতাংশ জমিতে আগাম আলু চাষ করেছিলেন। দাম কম থাকায় তাঁকে জমি থেকেই আলু বিক্রি করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, অনেক কষ্ট করে ফসল ফলালেও ন্যায্যমূল্য না, ফড়িয়া মেলে ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্য কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেক – দিন পর ভোট। ভোট দিতে যাবেন তিনি, তবে তাঁর চাওয়া – একটাই যে সরকারই আসুক, কৃষকের কষ্ট যেন লাঘব হয়। কালাই উপজেলার মহেশপুর গ্রামের কৃষক রেজওয়ান হোসেন বলেন, ভোট দেই ঠিকই, কিন্তু – কৃষকের কষ্ট থেকেই যায়। কালাই হাটে সবজি বিক্রি করতে আসা হাজিপাড়া গ্রামের মোয়াজ্জেম হোসেনের মুখেও শোনা গেছে একই হতাশার কথা। তাঁদের প্রত্যাশা, নতুন সরকার অন্তত ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটভেঙে দেবে এবং এলাকায় একটি সরকারি হিমাগার নির্মাণ করবে। কালাই পৌর এলাকার কৃষক নিজাম উদ্দিন বলেন, ভোট এলেই প্রার্থীরা ভোটারদের আপ্যায়ন ও দাওয়াতে বিপুল অর্থ ব্যয় করেন। ইউনিয়ন বা উপজেলা নির্বাচনে যেখানে প্রায় কোটি টাকা খরচ হয়, সেখানে সংসদ নির্বাচনে ব্যয় আরও বেশি। এই খরচ তুলতেই নাকি পাঁচ বছর কেটে যায়, ফলে সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করার সময় থাকে না। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় কৃষকের মতো সাধারণ মানুষ। ক্ষেতলাল  উপজেলার টাউসারা গ্রামের কৃষক নুর মোহাম্মদ এরশাদ বলেন যে, দলই সরকার গঠন করুক, যদি কৃষকের ফসলের ন্যায্যমূল্য দেয়, সেই দলকেই আমরা ভোট দেব। রাজনীতিতে তাঁদের আগ্রহ কম, আগ্রহ শুধু ন্যায্য দামে ফসল বিক্রির সুযোগ পাওয়াতে। আক্কেলপুর উপজেলার  কৃষকরা মনে করেন, অনেক বছর পর দেশে ভোটের মতো ভোট হচ্ছে। তিনি বলেন, ভোটে যে দলই জিতুক, আমাদের চাওয়া খুব সীমিত। আমরা যে আলু-ধান ফলাই, সেগুলো যদি কারখানায় কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয় তাহলে কৃষকের লাভ হবে, কর্মসংস্থান বাড়বে এবং বাজারদরও স্থিতিশীল থাকবে। মাঠের পর মাঠ ঘুরে দেখা যায়, ভোট নিয়ে কৃষকদের প্রত্যাশা ও হতাশার ভাষা আলাদা হলেও কথা একটাই ভোট এলেও তাঁদের কষ্ট কমে না। তাই এবারের নির্বাচনে তাঁদের আশা, যারা ক্ষমতায় আসবেন তারা যেন কৃষকের দুঃখ-কষ্ট বুঝে মাঠে ফলানো ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করেন। তাহলেই হয়তো ভোটের সদে সঙ্গে তাঁদের ভাগ্যও একটু বদলাবে এমনটাই আশাই করেন কৃষকরা।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন