জাতীয় পার্টি গণতন্ত্র ও উন্নয়নমুখী রাজনীতিতে বিশ্বাসী একটি রাজনৈতিক দল বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঈশ্বরগঞ্জ আসনের পদপ্রার্থী ফখরুল ইমাম। তিনি বলেন, নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের চেয়েও দেশের গণতন্ত্র সুরক্ষা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ফখরুল ইমাম বলেন, জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয় এবং গণতন্ত্র বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। এ কারণেই জাতীয় পার্টি স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে প্রতিটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে আসছে। ১৯৮৮ সাল থেকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত দলের এই অংশগ্রহণ গণতন্ত্রের প্রতি জাতীয় পার্টির দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
তিনি আরও বলেন, তিনি ১৯৮৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে ঈশ্বরগঞ্জ আসন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার প্রতিনিধিত্বকালে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার শিক্ষা, যোগাযোগ, অবকাঠামো ও সামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। এলজিইডির আওতায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত গ্রামীণ পল্লী উন্নয়নে ২৫৫ কিলোমিটার পাকা রাস্তা, ২ হাজার ২০১টি সেতু ও কালভার্ট, ৬টি ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স, ৮২টি দৃষ্টিনন্দন প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১২টি গ্রোথ সেন্টার, ৩৮৫ হেক্টর জমিতে বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং ২.৫ কিলোমিটার বাগজুড়ি খাল খনন করা হয়েছে।
এছাড়া ৭৯টি মসজিদ, মন্দির ও কবরস্থান-শ্মশানের উন্নয়ন, সোহাগী-সাহিতপুর সড়কে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ব্রিজ নির্মাণসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন করা হয়েছে। বর্তমানে ৭১০ কোটি টাকা ব্যয়ে কেন্দুয়া-আঠারবাড়ি-ঈশ্বরগঞ্জ ১৪ কিলোমিটার মহাসড়ক, ৪৮১ কোটি টাকা ব্যয়ে বিশিউরা-ঈশ্বরগঞ্জ অংশের ৩ কিলোমিটার মহাসড়ক এবং গাজীপুর-তারুন্দিয়া-উচাখিলা-রা জিবপুর-মধুপুর হয়ে হোসেনপুর পর্যন্ত দুই লেন সড়কের ঈশ্বরগঞ্জ অংশে ১৮ কিলোমিটার রাস্তার উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে।
বেকার যুবক ও যুবতীদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে রাজিবপুর ইউনিয়নের চররামমোহন এলাকায় ২২০ একর জমিতে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি ৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যয়ে আধুনিক মার্কেট নির্মাণ, ৩৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চারতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ, ২৮টি গার্ডার ব্রিজ স্থাপন, ভূমিহীনদের জন্য সরকারি ঘর নির্মাণ এবং বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপনসহ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার কথা তুলে ধরেন তিনি।
এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার বিকেলে ঈশ্বরগঞ্জে জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী ফখরুল ইমামের গণসংযোগ ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ ঘিরে এলাকায় ব্যাপক সাড়া পড়ে। বাজার ও আশপাশের এলাকায় সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গণসংযোগ চলাকালে তিনি দোকানদার, শ্রমজীবী মানুষ, প্রবীণ ও তরুণ ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন।
স্থানীয় সূত্র ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই গণসংযোগে ভোটারদের মধ্যে আস্থা, নৈকট্য ও স্মৃতিনির্ভর রাজনীতির প্রতিফলন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অনেক ভোটার সাবেক রাষ্ট্রপতি পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলের উপজেলা পরিষদ ব্যবস্থা, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা ও প্রশাসনিক সংস্কারের কথা স্মরণ করেন, যা আজও তাদের মনে স্থিতিশীলতার প্রতীক হিসেবে রয়ে গেছে।
রায়বাজার গো-হাটা ময়দানে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় জাতীয় পার্টির নেতারা উপরোক্ত কথা তুলে আরো বলেন, ঈশ্বরগঞ্জের অসম্পূর্ণ উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করতে অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত নেতৃত্ব প্রয়োজন। বক্তারা দাবি করেন, উন্নয়ন, সুশাসন ও সামাজিক ন্যায়ের প্রশ্নে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে অতীত অভিজ্ঞতাই বড় শক্তি।
শেষে ফখরুল ইমাম বলেন, ঈশ্বরগঞ্জে যে পরিমাণ উন্নয়ন তিনি করেছেন, তার ধারাবাহিকতা রক্ষা করে এলাকাটিকে একটি আধুনিক ও উন্নত উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চান তিনি। ভোটাররা যদি তাকে যোগ্য মনে করেন, তবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি লাঙ্গল প্রতীকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করবেন—এই বিশ্বাস তার রয়েছে।




