আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেট অঞ্চলে ব্যাপক নির্বাচনী উৎসবের আমেজ দেখা যাচ্ছে। নির্বাচনে অংশ নিতে ও প্রিয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় যোগ দিতে ইতোমধ্যে কয়েক হাজার প্রবাসী দেশে ফিরেছেন। তফসিল ঘোষণার আগ থেকেই তাদের দেশে ফেরার ধারা শুরু হয়, যা নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে আরও বেড়েছে।
ফিরে আসা প্রবাসীরা শুধু ভোটার হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; বরং তারা সরাসরি নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন। প্রতিদিনই তারা গণসংযোগ করছেন, বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাইছেন এবং বিভিন্ন এলাকায় প্রচার মিছিলেও অংশ নিচ্ছেন। প্রবাসীদের ভাষ্য, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে দেশের মানুষের পাশাপাশি তারাও ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলেন। সে কারণে কর্মস্থল থেকে ছুটি নিয়ে নাড়ির টানে দেশে ফিরেছেন—ভোট দিতে ও প্রিয় প্রার্থীর পক্ষে মাঠে কাজ করতে।
বাংলাদেশের আধ্যাত্মিক রাজধানী খ্যাত সিলেট জেলা প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত। জেলার কয়েক লাখ মানুষের কর্মস্থল বিদেশে। বিশেষ করে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে সিলেট অঞ্চলের মানুষের সংখ্যা বেশি হওয়ায় সিলেটকে অনেকেই ‘দ্বিতীয় লন্ডন’ হিসেবে অভিহিত করেন। এই অঞ্চলের মানুষের আয়ের প্রধান উৎস রেমিট্যান্স। গ্রামাঞ্চলে গেলে প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই অন্তত একজন প্রবাসী সদস্যের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
নির্বাচনী এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, প্রবাসীরা কেবল ভোটার হিসেবেই নয়, বরং প্রচারণার অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছেন। যুক্তরাজ্য, ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা প্রবাসীরা ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন, বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন।
বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির প্রার্থীদের প্রচারণা ও সমাবেশে প্রবাসীদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। প্রার্থীদের সঙ্গে নিয়ে তারা প্রচার মিছিলেও অংশ নিচ্ছেন।
এদিকে, যেসব প্রবাসী এবার প্রবাস থেকেই ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছেন, তাদের মধ্যেও ভোটকে ঘিরে আলাদা এক উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সব মিলিয়ে সিলেটে এবারের নির্বাচন ঘিরে প্রবাসীদের অংশগ্রহণ নির্বাচনী মাঠে নতুন মাত্রা যোগ করেছ।




