জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে দলিলের নকল কপি সংগ্রহ ও নিবন্ধন সংক্রান্ত কাজে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, সরকারি নির্ধারিত ফি’র বাইরে প্রতিটি নকলের বিপরীতে এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ফি নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি দলিল নিবন্ধনের সময়ও নিয়মবহির্ভূতভাবে বাড়তি অর্থ আদায় করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিনে একাধিক দলিল লেখকের সাথে কথা বলে জানাযায়, এই অফিসে অতিরিক্ত টাকা ছাড়া কোনো কাজই হয় না। দলিল তল্লাশি ফি ৫০ টাকা হলেও নেওয়া হয় ১০০ থেকে ২০০ টাকা। একইভাবে, প্রতিটি নকল কপির জন্য সরকারি ফি’র বাইরে অতিরিক্ত এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়।
নাম প্রকাশ না করা সর্তে একাধিক দলিল লেখক বলেন, অফিসের একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এসব অনিয়ম পরিচালিত হয় এবং আদায়কৃত অর্থ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে ভাগাভাগি করা হয়।
ভুক্তভোগী কালাই পৌরসভা এলাকার বাসিন্দা চঞ্চল বাবু জানান, দলিলের একটি নকল কপি সংগ্রহ করতে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে গেলে অফিসের মোহরার ফরহাদ হোসেন তার কাছে ১ হাজার ৬৫০ টাকা দাবি করেন। নকলের উল্টো পৃষ্ঠায় সরকারি ফি ৮৫০ টাকা উল্লেখ থাকায় অতিরিক্ত টাকার বিষয়ে প্রশ্ন তুললে তিনি দাবিতে অনড় থাকেন। পরে দেড় হাজার টাকা পরিশোধ করার পর নকল কপি দেওয়া হয়।
অভিযুক্ত মোহরার ফরহাদ হোসেন নকল কপি সরবরাহে সরকারি ফি ৮৫০ টাকার বিপরীতে ১ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
এ বিষয়ে কালাই সাব-রেজিস্ট্রার মো. সামিউল ইসলাম বলেন, নকল কপিতে সরকারি ফি ৮৫০ টাকা উল্লেখ থাকলেও স্ট্যাম্পের খরচ বেশি হওয়ায় ওই টাকায় নকল সরবরাহ সম্ভব নয়। তিনি দাবি করেন, ২০০ টাকার স্ট্যাম্প ২৮০ টাকায় কিনতে হয়।
অন্যদিকে জয়পুরহাট জেলার রেজিস্ট্রার আব্দুল বারী বলেন, দলিলের নকল কপি সরবরাহে সরকারি ফি ছাড়া অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সচেতন মহলের দাবি, সরকারি সেবা খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে ঘুষ ও অনিয়ম বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসহ সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছে তারা।




