কুষ্টিয়ার কোর্ট রেলস্টেশনে ট্রেনের এক স্টাফের বিরুদ্ধে বাবা-ছেলেকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ যাত্রী ও স্থানীয়রা ঢাকা থেকে খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস প্রায় দুই ঘণ্টা স্টেশনে আটকে রেখে বিক্ষোভ করেন। এতে ঢাকা–পোড়াদহ রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং ভোগান্তিতে পড়েন শত শত যাত্রী।
শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে কুষ্টিয়া কোর্ট রেলস্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন শফিউল আওয়াল সুমন (৪০) এবং তাঁর বাবা আব্দুর রহিম (৬৫)। আহতদের অভিযোগ, দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনটি কোর্ট রেলস্টেশনে পৌঁছালে তাঁরা চুয়াডাঙ্গায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে অসুস্থ মা-বাবাকে নিয়ে ট্রেনে ওঠার চেষ্টা করেন। এ সময় ট্রেনের এক স্টাফ তাঁদের বাধা দেন। একপর্যায়ে সুমনের মাকে ধাক্কা দিলে তিনি পড়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়।
সুমনের দাবি, এরপর ট্রেনের বগির ভেতরে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে ওই স্টাফ ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে ও তাঁর বাবাকে আঘাত করেন। তিনি আরও দাবি করেন, অভিযুক্ত স্টাফের বাড়ি চুয়াডাঙ্গা জেলায়।
ঘটনার পর উত্তেজিত যাত্রী ও স্থানীয়রা সুন্দরবন এক্সপ্রেস স্টেশনে আটকে রেখে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ট্রেনের লোকোমাস্টার ও ট্রেন পরিচালক ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
খবর পেয়ে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার সরকার ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে বিক্ষোভকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন। পরে প্রায় দুই ঘণ্টা পর ঢাকা–পোড়াদহ রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
কোর্ট রেলস্টেশনের ইনচার্জ ইতি খাতুন জানান, ঘটনার তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন। বর্তমানে ওই রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।



