গাজীপুরের কাপাসিয়ায় সমীক্ষাতেই আটকে পুরাতন ব্রহ্মপুত্রে সেতু নির্মাণ, ভরসা এখনো বাঁশের সাঁকো

নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রাম এবং গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার সনমানিয়া ইউনিয়নের মির্জানগর গ্রামের মাঝখানে প্রবাহিত হয়েছে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ। দুই জেলার দুই ইউনিয়নের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি, নদটির ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সম্ভাব্যতা যাচাই, মাটি পরীক্ষা ও সমীক্ষা শেষ হওয়ার পরও সেতু নির্মাণে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। ফলে প্রতিদিন শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, রোগীসহ সাধারণ মানুষ ঝুঁকি নিয়ে প্রায় ১০০ ফুট দীর্ঘ একটি নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে নদ পারাপার করছেন। বর্ষা মৌসুমে এ ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
স্থানীয়রা জানান, সেতু না থাকায় কৃষিপণ্য সময়মতো বাজারে নেওয়া যায় না। এতে কৃষকদের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। জরুরি রোগী পরিবহনেও দুই পাড়ের মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।
সেতুটির গুরুত্ব বিবেচনায় কয়েক বছর আগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রাথমিক সম্ভাব্যতা যাচাই করে। পরে মাটি পরীক্ষাও করা হয়। ২০১৯ সালে সেতু নির্মাণের দাবিতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
এরপর স্থানীয়দের স্বাক্ষরসংবলিত একটি আবেদন এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীর কাছে জমা দেওয়া হয়। আবেদনটি দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী মো. আল-ফাহাদের উদ্যোগে জমা দেওয়া হয়। আবেদনপত্রের অনুলিপি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরেও পাঠানো হয়। পরে ২০২২ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও এলজিইডির একটি প্রতিনিধি দল সরেজমিনে এসে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করে বলে জানান তিনি।
মির্জানগরের ব্যবসায়ী আব্দুল কাদির বলেন, “মাটি পরীক্ষা হলো, মাপজোখ হলো; কিন্তু সেতুর কাজ আর শুরু হলো না। আমাদের ভরসা এখনো সেই বাঁশের সাঁকো আর নৌকা।”
মির্জানগর নতুন বাজারের পল্লী চিকিৎসক জহিরুল ইসলাম (জুলহাস) বলেন, “দৌলতপুর রথখোলা বাজার ও মির্জানগর বাজারের মধ্যে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ। দীর্ঘদিন ধরে আমরা এখানে একটি সেতুর দাবি জানিয়ে আসছি। সেতুটি নির্মিত হলে দুই এলাকার মানুষের যাতায়াত ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যাপক সুবিধা হবে।”
দৌলতপুর রথখোলা বাজারের ব্যবসায়ী শরীফ হোসেন বলেন, “একটি সেতুর অভাবে ব্যবসায়ী, ক্রেতাসহ সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অনেক প্রতিশ্রুতি মিললেও এখনো সেতুর বাস্তবায়ন দেখা যায়নি। আমরা দ্রুত সেতু নির্মাণের উদ্যোগ প্রত্যাশা করছি।”
খেয়াঘাটের মাঝি মিলন বলেন, “এখানে একটি সেতু খুবই প্রয়োজন। সেতুটি হলে এলাকার মানুষের যাতায়াত সহজ হবে এবং জনদুর্ভোগ অনেক কমে যাবে।”
এ বিষয়ে নরসিংদী এলজিইডির নিবাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফুলকাম বাদশা জানান, আমরা বেশ কয়েকটি ব্রিজ তৈরি করার জন্য কার্যক্রম গ্রহণ করেছি, এই ব্রিজটি তালিকায় আছে কিনা আমার জানা নেই। তবে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রকৌশলীর সাথে কথা বলে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে মনোহরদী উপজেলা প্রকৌশলী হরষিত কুমার সাহা জানান, বিষয়টা অনেক আগের ছিল, আমি অফিসে সকল কাগজপত্র দেখে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করব।
এদিকে, সেতু না থাকায় দুই তীরের বহু মানুষের ভরসা এখনো সেই বাঁশের সাঁকো। সমীক্ষা শেষ হওয়ার পরও সেতু নির্মাণ শুরু না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। জনদুর্ভোগ কমাতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় সমীক্ষাতেই আটকে পুরাতন ব্রহ্মপুত্রে সেতু নির্মাণ, ভরসা এখনো বাঁশের সাঁকো

নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রাম এবং গাজীপুরের কাপাসিয়া