গাজীপুরের কাপাসিয়ার ৫৯ শিক্ষকের এমপিও বাতিল

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) যাচাইয়ে জাল সনদের প্রমাণ পাওয়ায় দেশের ১১৪ জন মাদ্রাসা শিক্ষকের এমপিও সুবিধা বাতিল করেছে মন্ত্রণালয়। এদের মধ্যে ৫৯ জনই গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার বিভিন্ন মাদ্রাসায় কর্মরত ছিলেন। কাপাসিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আরিফ তালুকদার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, এসব শিক্ষকদের কাছে সরকার সরাসরি চিঠি দিয়েছেন। আমি এটা নিশ্চিত হয়েছি। তবে এখনো আমি এখনো সব তথ্য নিতে পারেনি।
গত ২৩ মে ৫৭,০০,০০০০,০৪০,২২,০০৩,২০,৬২ নং স্মারকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের সনদ জাল প্রমাণিত হওয়ায় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৬ এর ১৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তাদের এমপিও সুবিধা বাতিল করা হয়েছে।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের এমপিও স্থায়ীভাবে বন্ধ করার পাশাপাশি তাদের মাধ্যমে গৃহীত সরকারি অর্থ আদায় এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করা হবে।
প্রকাশিত তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ১১৪ জন শিক্ষকের মধ্যে ৫৯ জনই গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার ২৬টি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন। একই এলাকার এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষকের বিরুদ্ধে জাল সনদের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মাদ্রাসা গুলো হল টোক নগর দারুন হাদিস আলিম মাদ্রাসায় ৫জন, আড়ালিয়া বালিকা দাখিল মাদ্রাসায় ৫ জন,দক্ষিণগাঁও বালিকা দাখিল মাদ্রাসায় ৬ জন, ইকুরিয়ার সিরাজিয়া বালিকা দাখিল মাদ্রাসায় ৪জন, বেলাশি মদিনাতুল উলুম বালিকা মাদ্রাসায় ৩জন, আড়ালিয়া কেরামতিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় ২জন, ছেলদিয়া আ: মান্নান ভূঁইয়া বালিকা দাখিল মাদ্রাসায় ৩জন, বড়িবাড়ি বালিকা দাখিল মাদ্রাসায় ৩জন, চাঁপাত আকবরিয়া বালিকা দাখিল মাদ্রাসায় ২জন সহ অন্যান্য মাদ্রাসায় ১জন করে মোট ৫৯ জন।
এ বিষয়ে স্থানীয় শিক্ষাবিদ  মোহাম্মদ মজিবুর রহমান বলেন, সুষ্ঠু তদন্ত করলে এই তালিকা আরো অনেক দীর্ঘ হবে। মাদ্রাসার পাশাপাশি স্কুল গুলোর মধ্যেও এরকম জল জালিয়াতি করে নিয়োগ প্রাপ্ত শিক্ষক পাওয়া যাবে। স্থানীয় একটি চক্র শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সহযোগিতা এই নিয়োগ প্রদান করে থাকে বলে জানা যায়। শিক্ষকদের পাশাপাশি অধিদপ্তরের কর্মকর্তা যারা এ নিয়োগ প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত তাদেরকেও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
​এ বিষয়ে গাজীপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আল মামুন তালুকদার বলেন,  তিনি বিষয়টি জেনেছেন । এর আগে তিনি জয়েন করার পর ভুয়া সার্টিফিকেটে চাকরির কারণে কাপাসিয়ায় ১২ জন শিক্ষক শাস্তি পেয়েছেন। তিনি আরো বলেন, “ কাপাসিয়ায় সমস্যা আছে। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের সমস্যা আছে। ঈদের পর অফিস খোলা হলে আমরা আরো খোঁজ নিব”।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় সমীক্ষাতেই আটকে পুরাতন ব্রহ্মপুত্রে সেতু নির্মাণ, ভরসা এখনো বাঁশের সাঁকো

নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রাম এবং গাজীপুরের কাপাসিয়া