জয়পুরহাটের কৃতি সন্তান প্রফেসর ড. মোঃ গোলাম আজম রানা কষ্টের কাছে হার না মানা নাম। প্রাপ্যতা ও সিলেকশন বোর্ড হওয়ার প্রায় এক বছর পরে রিজেন্ট বোর্ড তাকে “প্রফেসর” পদে উন্নীত করেছেন । তিনি বর্তমানে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত আছেন। তার বৈচিত্র্যময় কর্মজীবন এবং শিক্ষা জীবন।
শিক্ষা জীবন শুরু হয়েছিল গ্রামের মাদ্রাসা থেকে প্রাইমারি লেভেল, সেখানে ও অন্য আরেকটি প্রতিষ্ঠানে কিছুদিন গিয়েছেন । তারপর দুটি স্কুল, দুইটি কলেজ এবং তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরে একাডেমিক পড়াশোনা শেষ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শুরু করেছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগে (সেশন: ২০০১-০২) ভর্তি হওয়ার মাধ্যমে । কিছু দিন পর একই বিশ্ববিদ্যালয়ে বায়োকেমিস্ট্রি এন্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগে ভর্তির সুযোগ পান । এক বছর পরে, ডাক্তার হওয়ার তাগিদে (দ্বিতীয়বার মেডিকেলে চান্স না পেয়ে) সেখান থেকে চলে গেলেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেনারি এন্ড এনিমেল সাইন্স অনুষদে (ডক্টর অফ ভেটেরিনারি মেডিসিন) । সেখান থেকে আবার চলে গেলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্যারাসাইটোলজি (পরজীবী বিদ্যা) বিভাগে এবং এখানেই একাডেমিক পড়াশোনা (M S in Parasitology) শেষ করেন । তারপর এম,ফিল সহ পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে (বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান) সমন্বিত কাজ করার মাধ্যমে অর্থাৎ সেখানেও একটা দিয়ে হলো না। কর্ম ক্ষেত্রেও উনার বৈচিত্রময়তা লক্ষ্য করা যায়, কর্মজীবন শুরু করেছিলেন অনার্স (DVM) শেষ হবার আগেই, একটা এনজিও তে (ESDO, ঠাকুরগাঁও) কাজের মাধ্যমে তারপর এম.এস. চলাকালীন সময়ে প্রত্যেক সেমিস্টার শেষে ১/২ মাস করে বিভিন্ন প্রজেক্ট/এনজিও তে কাজ করেছেন গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামে।
একাডেমিক পড়াশুনা শেষ হবার পরেই, একটি সরকারি চাকুরিতে (তৃতীয় শ্রেণী) যোগদান করেছিলেন কিন্তু পরিবার (ভাই-বোন) ও সমাজের (এক্সপেক্টেশন অন্য কিছু) চাপে ২ মাস পরেই চাকুরিটি ছেড়ে দিয়ে কোম্পানিতে যোগদান করতে বাধ্য হয় । একটি কোম্পানিতে ১ দিন, আর একটিতে ২ দিন, তারপর পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস (এগ্রোভেট ডিভিশন)-এ যোগদান করে ৪ মাস চাকুরীতে ছিলেন । এরপরেই জীবনের গতির গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী হয়, যোগদান করেন “এডিশনাল ভেটেরিনারি সার্জন” (বার্ড ফ্লু প্রোজেক্ট) হিসাবে চাঁদপুরে । তার পরেই শুরু হয় ব্যাংকিং ক্যারিয়ার যোগদান করেন ইসলামী ব্যাংক লিঃ ফেনী শাখায় আর পিছনে ফিরতে হয়নি । এরপর জনতা ব্যাংক লিঃ, সোনালী ব্যাংক লিঃ । সোনালী ব্যাংক লিঃ, আঞ্চলিক কার্যালয় জয়পুরহাটে প্রায় দুই বছর কর্মরত ছিলেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার প্রতি ছিল তার অদম্য বাসনা, বন্ধু-বান্ধব এবং ছেড়ে আসা কলিগদের কাছ থেকে জানা যায় ৫০০০ টাকা বেতন হলেও সবকিছু ছেড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করবেন, এরকম ছিল ওনার ডেডিকেশন ছিলো । এলো এবার সেই মহেন্দ্রক্ষণ, একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে সিলেকশন এবং বিসিএস (লাইভস্টক) ক্যাডার হিসেবে সুপারিশ প্রাপ্ত হলেন । প্রফেসর ড. মোঃ গোলাম আজম রানা গ্রামের বাড়ি জয়পুরহাট সদর উপজেলার ভাদশা ইউনিয়নের পালি (পশ্চিম) গ্রামে । ছয় ভাই বোনের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ তিনি, সবগুলো ভাই বোন শিক্ষিত । অধিকাংশ-ই উচ্চশিক্ষিত এবং সরকারি-বেসরকারি চাকুরির সঙ্গে জড়িত । উনারা যে পাড়াতে বসবাস করতেন সেখান থেকে বড় ২ বোন সর্বপ্রথম কলেজে পা রাখেন । তার আগে কেউ প্রাইমারি স্কুলের গণ্ডি পার হতে পারে নাই । গর্বের জায়গা হলো, ওনাদের বাবা-মা নিজের নামও ভালো করে লিখতে পারত না, তবে নিঃসন্দেহে ওনারা জ্ঞানী এবং দূর দৃষ্টি সম্পন্ন ছিলেন বলে ছেলেমেয়েদের শিক্ষিত করার চেষ্টা করেছেন ।




