তামাকজাত দ্রব্যে তরুণ সমাজ মারাত্মক হুমকির মুখে

তরুণ সমাজের মধ্যে মাদক দ্রব্য সেবন ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে উত্তরের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে রাতে ঘন কুয়াশার আড়ালে গরু ও মাদক চোরাচালানসহ ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য সেবনের আসর বসে। সরকার ২০০৫ সালের ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন করে ২০২৫ সালে ডিসেম্বর মাসে নতুন আইন জারি করেছে। নতুন আইনে পাবলিক স্থানে ধূমপান ও যেকোনো তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাবলিক স্থানের সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, শপিংমল, বাস টার্মিনাল, হোটেল, বাড়ির বারান্দাসহ সকল উন্মুক্ত এলাকা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও শিশু পার্কের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেটে পূর্বের ৫০ শতাংশের পরিবর্তে ৭৫ শতাংশ এলাকাজুড়ে স্বাস্থ্য সতর্কবাণী মুদ্রণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নাটক, চলচ্চিত্র ও অনলাইনে তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং তামাকজাত দ্রব্য উৎপাদন আমদানি রপ্তানি সংরক্ষণ বিক্রয় ও ব্যবহার এবং ই-সিগারেট ও অন্যান্য নতুন তামাকজাত দ্রব্যের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছয় মাস কারাদণ্ড বা পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে এবং আইন লঙ্ঘনে ৩০০ টাকা থেকে ২,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হলো সরকার জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের কথা বললেও বাস্তবে তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। দিন দিন তরুণদের মধ্যে ধূমপান ও মাদকদ্রব্যের ব্যবহার বেড়েই চলেছে। সরকার যদি এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নেয় তাহলে লক্ষ লক্ষ তরুণ যুবক মাদক ও তামাকাসক্তির শিকার হবে। যা একটি জাতির ভবিষ্যতের জন্য মারাত্মক হুমকি। সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উচিত আইন শুধু আইনের পাতায় সীমাবদ্ধ না রেখে তা কার্যকর করা। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা সচেতনতামূলক প্রচারণা জোরদার করা এবং তামাকজাতীয় ফসলের বিকল্প ফসল চাষে কৃষকদের সচেতন করার সাথে সাথে ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। একমাত্র সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই আমরা মাদক দ্রব্য, ধূমপান ও তামাকমুক্ত সুস্থ ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলা সম্ভব।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন