বৃহস্পতিবার,১৯শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

নিখোঁজের ২৬ দিন পর টয়লেট ট্যাংকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার, দাদীর অভিযোগে নতুন প্রশ্ন

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলায় নিখোঁজের ২৬ দিন পর চার মাস বয়সী শিশু আশরাফুলের মরদেহ বাড়ির পেছনের টয়লেট ট্যাংক থেকে উদ্ধার হয়েছে। দীর্ঘদিন পানির ভেতরে থাকায় মরদেহটি পচাগলা অবস্থায় ছিল। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের পাশাপাশি ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

ঘটনাটি উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের দ্বাড়িয়াকান্দি (কাঁঠালতলা) এলাকায়। শিশু আশরাফুলের বাবা শাহিন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত।

উল্লেখ্য, গত ৫ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিশুটির মা তাকে বুকের দুধ খাওয়ানোর পর ঘরের ভেতরে দোলনায় শুইয়ে রেখে বাড়ির পাশেই পাতা ঝাড়ু দিতে যান। কিছুক্ষণ পর সাত বছর বয়সী বড় ছেলে এসে জানায়, দোলনায় ছোট ভাই নেই। পরিবারের সদস্যরা ঘর ও আশপাশে খোঁজ করেও শিশুটির সন্ধান পাননি।

নিখোঁজের পর এক প্রতিবেশী দাবি করেছিলেন, বোরকা পরা তিন নারীকে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করতে দেখা গেছে এবং তাদের একজনের হাতে একটি শিশু ছিল। ওই বক্তব্যের পর এলাকায় শিশু চুরির আশঙ্কা জোরালো হয়।

বুধবার (৩ মার্চ) সকালে বাড়ির পেছনের টয়লেট ট্যাংক পরিষ্কার করতে গিয়ে প্রথমে শিশুটির দাদা ভেতরে মরদেহটি দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

ভৈরব কুলিয়ারচরের সার্কেল এএসপি মোহাম্মদ ফয়জুল ইসলাম জানান, নিখোঁজের ঘটনার পর থেকেই তদন্ত চলছিল। মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইয়াসিন খন্দকার বলেন, প্রশাসন শুরু থেকেই বিষয়টি নজরে রেখেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে শিশুটির দাদী অভিযোগ করেছেন, তার ছোট ছেলের স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতেন এবং বিভিন্ন সময় হুমকি দিতেন। তার দাবি, পারিবারিক বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটতে পারে।

তবে অভিযুক্তের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ বলছে, অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং পারিবারিক বিরোধের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।

একটি শিশুর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে ক্ষোভও বাড়ছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

শোকস্তব্ধ পরিবার এখন ন্যায়বিচারের অপেক্ষায়।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন