পরোপকারী ও জনদরদী সংগঠক আলহাজ্ব মোঃ ফোরকান আকন

পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার স্বনামধন্য ও ঐতিহ্যবাহী এক শিক্ষানুরাগী পরিবারে ১৯৫৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন আলহাজ্ব মোঃ ফোরকান আকন। তিনি প্রয়াত গিয়াসউদ্দিন আকনের পুত্র। ব্যক্তিজীবনে দীর্ঘাঙ্গিক, সুদর্শন ও অমায়িক ব্যবহারের অধিকারী ফোরকান আকন একজন পরোপকারী ও জনদরদী সংগঠক হিসেবে এলাকায় সুপরিচিত।
শিক্ষাজীবনে তিনি ১৯৭২ সালে কাছিপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ১৯৭৪ সালে সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরবর্তীতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ থেকে ১৯৭৭ সালে ডিপ্লোমা ইন ফার্মেসি সম্পন্ন করেন। ১৯৭৮ সালে তিনি কর্মজীবনে প্রবেশ করেন।
কর্মজীবনে তিনি ফার্মাসিস্ট হিসেবে বিআইডব্লিউটিসি, বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মতিঝিল ডিসপেনসারি অ্যান্ড মাতৃসদন হাসপাতাল এবং তেজগাঁওয়ের সংসদ ভবন ডিসপেনসারিতে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৮ সাল থেকে ১৯৯৮ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তিনি সুনামের সঙ্গে মেডিসিন সেন্টারে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৯৮ সালে তৎকালীন পিজি হাসপাতালকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) রূপান্তরের সময় ‘কর্মচারী কল্যাণ পরিষদ’-এর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন ফোরকান আকন। একজন দক্ষ সংগঠক হিসেবে তিনি টেকনোলজিস্ট ও নার্সদের নিয়ে সমন্বয় পরিষদ গঠন করে চিকিৎসা খাতে সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
পরবর্তীতে বিএসএমএমইউ সেমি-সরকারি প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হওয়ায় সরকারি চাকরিতে বহাল থাকার জন্য ২০০০ সালে তিনি স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালে মেডিসিন সেন্টারে যোগদান করেন। ২০০৩ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বদলি হয়ে মেডিসিন সেন্টারের সেকশন ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
দীর্ঘ কর্মজীবনের পর ২০১৫ সালের ৬ মার্চ তিনি অবসর গ্রহণ করেন। ব্যক্তিজীবনে তিনি নিরহংকারী, নির্লোভী ও উদার মনের অধিকারী হিসেবে পরিচিত। এলাকার মানুষের কল্যাণে কাজ করা এবং মানবিক সহায়তা প্রদানই তার জীবনের মূল লক্ষ্য বলে স্থানীয়রা জানান।
এলাকাবাসীর মতে, আলহাজ্ব মোঃ ফোরকান আকনের জীবনের প্রতিটি উদ্যোগের নেপথ্যে রয়েছে মানুষের সেবা করার আন্তরিক ইচ্ছা ও সমাজের উন্নয়নে অবদান রাখার অদম্য স্পৃহা।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন