পাবনায় পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গায় স্থায়ী দ্বিতল ভবন নির্মান করার অভিযোগ উঠেছে ফার্মেসী ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে বেড়া উপজেলার নতুন ভারেঙ্গা ইউনিয়নাধীন বাটিয়াখড়া বাজারে।অভিযুক্ত ফার্মেসী ব্যবসায়ী শরিফ কৈটলা ইয়নিয়নাধীন মানিকনগর গ্রামের মৃত মনজেল উদ্দিনের ছেলে। এবিষয়ে অভিযুক্ত শরিফ কে একাধিক বার লিখিত নোটিশ প্রদান করার পরও ভবন নির্মাণ কাজ বন্ধ না করায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ।
জানা যায়, প্রায় দুইমাস পুর্বে বাটিয়াখড়া বাজারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গায় পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই স্থায়ী দ্বিতল ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু করে অভিযুক্ত শরিফ। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হলে তাকে কয়েক দফা মৌখিক নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেন কর্তৃপক্ষ। এতে কর্ণপাত না করায় ১৪ মে ২০২৬ তারিখে বেড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড শাখা -১ এর উপ সহকারী প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান তাকে লিখিত নোটিশ প্রদান করেন।নোটিশে অভিযুক্ত কে ১৯৭০ সালের ভূমি ইমারত অধ্যাদেশ ৫ (১) ধারায় নোটিশ প্রাপ্তির ৭ দিনের মধ্যে নির্মাণকৃত ভবন অপসারন করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরপরও নির্মান কাজ বন্ধ না করায় ২২ জুন ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বাপাউবো বেড়া পাবনার উপ- বিভাগীয় প্রকৌশলী হায়দায় আলী ১৯৭০ সালের ভূমি ইমারত অধ্যাদেশ ৫(১) ধারা অনুযায়ী ৫ দিনের মধ্যে ভবন নির্মাণ কাজ বন্ধ পুর্বক অপসারনের নির্দেশনা প্রদান করে।তথাপিও পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে স্থায়ী দ্বিতল ভবন নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে অভিযুক্ত ফার্মেসি ব্যবসায়ী শরিফ।
পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের বার বার দেওয়া নোটিশ অমান্য করে নির্মান কাজ চালিয়ে যাওয়ায় অভিযুক্ত শরিফ এর ক্ষমতার উৎস্য ও পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের ভুমিকা (দুর্বলতা ও সীমাবদ্ধতা) নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে স্থানীয়’রা। স্থানীয়দের দাবি পানি উন্নয়ন বোর্ডের অভ্যন্তরীণ কোন কর্মকর্তার ইন্ধন ও সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কারও শেল্টার (আশ্রয়) না থাকলে এটা হওয়ার কথা নয়। অনতিবিলম্বে ক্ষমতার দাপটে নির্মাণ করা এই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করেন তারা।
এবিষয়ে অভিযুক্ত শরিফ বলেন, কত মানুষ কত অপরাধ করছে। আমিতো শুধু ভবন নির্মাণ করছি।পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের যখন প্রয়োজন পড়বে অন্য সবার মত আমিও ভেঙে দিব।
এবিষয়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো) বেড়া পাবনার উপ- বিভাগীয় প্রকৌশলী হায়দার আলী বলেন,পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে দুইটি লিখিত নোটিশ (নিষেধাজ্ঞা) দেওয়ার পরও নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে যা সম্পুর্ণ আইনের লঙ্ঘন।ভবন উচ্ছেদকল্পে আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট অনুমতি ও বাজেট চেয়েছি। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে অতিদ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




