সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ১নং নিজপাট ইউনিয়নের রাজবাড়ী জালালবস্তি এলাকায় মাদকবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে আনসার ও ভিডিপি বাহিনীর দলনেতা বিল্লাল আহমদ লিটনের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় আহত হয়ে তিনি বর্তমানে জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় জৈন্তাপুর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিল্লাল আহমদ লিটন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। তিনি বিভিন্ন সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদমূলক বক্তব্য তুলে ধরেন এবং স্থানীয় তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
গত ২২ মে ২০২৬ তারিখে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি রাজবাড়ী ও নয়াবস্তি এলাকায় কথিতভাবে ‘বাবা ট্যাবলেট’সহ বিভিন্ন মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পোস্টে তিনি এলাকাবাসীকে মাদকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান এবং সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের অনুরোধ করেন।
এরপর ২৫ মে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় আমির নামের এক ব্যক্তিকে গাঁজা ও নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবনের সরঞ্জামসহ আটক করা হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হয়। বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরবর্তীতে বিল্লাল আহমদ লিটন তার ফেসবুক পোস্টে মাদকবিরোধী অবস্থান আরও জোরালোভাবে তুলে ধরেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ডের জের ধরে ২৬ মে একদল ব্যক্তি তার উপর হামলা চালায়। হামলার সময় তাকে কিল-ঘুষি ও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
বিল্লাল আহমদ লিটন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর একজন অভিজ্ঞ সদস্য। তিনি জৈন্তাপুর উপজেলার ১নং নিজপাট ইউনিয়নের দলনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কর্মজীবনে নিষ্ঠা, সাহসিকতা ও দায়িত্বশীলতার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি চারবার জাতীয় পর্যায়ের সম্মাননা অর্জন করেছেন। এর মধ্যে ২০২২ সালে স্বর্ণ পদক, ২০২৩ সালে রৌপ্য পদক, ২০২৫ সালে ডিজি সনদ এবং ২০২৬ সালে বিশেষ সনদ লাভ করেন।
ঘটনার পর বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
জৈন্তাপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সেনাজ এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “মাদক সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ভয়াবহ অভিশাপ। যারা মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, তাদের ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিল্লাল আহমদ লিটনের উপর হামলার ঘটনায় আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। মুক্তিযোদ্ধা দলের পক্ষ থেকে আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”
এদিকে আনসার ভিডিপি সদস্য রুহুল আমিন রনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলাই যদি অপরাধ হয়ে যায়, তাহলে সমাজ কখনো মাদকমুক্ত হবে না। লিটন ভাই দীর্ঘদিন ধরে এলাকার তরুণ সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে কাজ করে যাচ্ছেন। তার ওপর হামলার ঘটনা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। আমি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। সমাজকে মাদকমুক্ত করতে হলে লিটন ভাইয়ের মতো সাহসী মানুষদের পাশে দাঁড়াতে হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে সমাজ থেকে মাদকের বিস্তার রোধ করা কঠিন হবে। তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে বলে জানা গেছে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বর্তমানে বিল্লাল আহমদ লিটন জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং এলাকাবাসী হাসপাতালে ভিড় করছেন।
মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এই ঘটনায় জৈন্তাপুর উপজেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে এবং দ্রুত বিচার ও দোষীদের শাস্তির দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে।




